© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের এমপি পদ কি থাকবে?

শেয়ার করুন:
দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের এমপি পদ কি থাকবে?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৯ পিএম | ২২ জুলাই, ২০২৬
সম্প্রতি ‘অপ্রীতিকর ভিডিও ভাইরাল’ হওয়ায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগে হওয়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের পরও তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় বলে জামায়াতের বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর গতকাল মঙ্গলবার গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

তবে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। ওই তরুণীর বাবাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সম্পর্ক বৈধ হলে তা গোপন রাখা হয়েছিল কেন। আবার বয়সের পার্থক্য নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় বুধবার তার নির্বাচনি এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সচেতন নাগরিকের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল ও কুশপুতুল দাহ করা হয়।

এমপি পদ কি থাকবে?

এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।

কোনো ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া বা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কোনো বিধান সংবিধানে নেই বলেও মত তাদের।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সদস্য পদ শূন্য হতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলে সেটি ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে না।

আইন অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কারের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে বহিষ্কারকে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

কোন পরিস্থিতিতে পদ হারাতে পারেন?

আইনজীবীদের মতে, গাজী নজরুল ইসলাম যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এ ছাড়া কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে তিনি যদি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন, তখন তার সদস্য পদ নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ সদস্য পদ টিকে থাকা বা বাতিল হওয়ার বিষয়টি দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সাংবিধানিক বিধানের ওপর নির্ভর করে। ফলে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার হলেও গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ আপাতত বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে তিনি দলীয় পদত্যাগ, সংসদীয় আচরণ বা আদালতের রায়ের মাধ্যমে অযোগ্য হলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। আসলে ঘটনাটি সঠিক কিনা, তা নিশ্চিত নই। তিনি কারও ষড়যন্ত্রের শিকারও হতে পারেন। তারপরও বলবো, তিনি যদি অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে আদালত সেটি দেখবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তিনি তার দল থেকে পদত্যাগ করলে, আসনটি শূন্য ঘোষণা হবে। সে ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন