© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এম্বোলোর লাল কার্ড ছিল ভুল, স্বীকারোক্তি আইএফএবির

শেয়ার করুন:
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এম্বোলোর লাল কার্ড ছিল ভুল, স্বীকারোক্তি আইএফএবির

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২৩ এএম | ২৯ জুলাই, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে ভিএআর ব্যবহারের নিয়ম আরও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আইএফএবি। 

কোয়ার্টার ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের ৭২তম মিনিটে স্কোর ১-১ সমতায় ছিল। সে সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান সুইস খেলোয়াড় এম্বোলো। রেফারি জোয়াও পিনহেইরো প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআরের পরামর্শে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। এরপর রেফারি পারেদেসের কার্ড বাতিল করে অভিনয়ের (সিমুলেশন) অভিযোগে এম্বোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। এটি ছিল এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, ফলে তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

পরে, সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সুইজারল্যান্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার আগের প্রতিপক্ষ মিসরও অভিযোগ তোলে যে, লিওনেল মেসির দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।

তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত ব্যাখ্যায় আইএফএবি জানায়, বর্তমান ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী 'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' বা ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে কোনো খেলোয়াড়ের অপরাধ হয়েছে কি না বা হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য এই বিধান ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ এম্বোলোর ক্ষেত্রে যেভাবে ভিএআর ব্যবহার করা হয়েছে, তা বর্তমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। যার ফলে আইনের ভুল ব্যাখ্যায় সেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। 

আইএফএবি আরও জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে সিমুলেশনের ঘটনায় 'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' ধারা ব্যবহার নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলেছে। তাই বিষয়টি ভিএআর প্রটোকলের চলমান পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সিদ্ধান্তে এই বিধান ব্যবহার করা যাবে না।



এর আগে, সেই ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেছিলেন, রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি জানি তারা রেফারিকে রক্ষা করবে, কিন্তু এই নিয়মই আজ আমাদের ম্যাচ নষ্ট করেছে। এভাবে বিদায় নেওয়া খুবই কষ্টের।

এদিকে, আইএফএবির এই ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা। নতুন মৌসুম শুরুর আগে সদস্য দেশগুলোর রেফারি প্রধানদের নিয়ে বৈঠকে উয়েফা জানিয়েছে, ভিএআরের উদ্দেশ্য রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্ত নতুন করে বিচার করা নয়। কেবল স্পষ্ট ও গুরুতর ভুল অথবা রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ হওয়া উচিত।

পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও পর্যালোচনা কমিয়ে মাঠের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

এখন আইএফএবির এই ব্যাখ্যার ফলে ভবিষ্যতে ভিএআর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন