প্রেমের টানে নেত্রকোনায় চীনা যুবক, ধর্ম বদলে করলেন বিয়ে
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪২ পিএম | ২৯ জুলাই, ২০২৬
ফেসবুকে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব, প্রেম আর শেষ পর্যন্ত বিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এমনই এক ভালোবাসার গল্প বাস্তবে রূপ নিয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। প্রেমের টানে হাজারো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেছেন চীনের যুবক ওয়্যাং সুলিন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে লিজা। তিনি মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাজিম উদ্দিনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা ভাটগাঁও গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
অপরদিকে চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি এবং তাঁর ভাই মিলে চীনে রেস্তোরাঁর ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ঘটনার শুরু মাস দুয়েক আগে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে উভয় পরিবার ইতিবাচক সাড়া দেয়। প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকা বিমানবন্দরে লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান।
পরে ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং লিজার সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েকে পূর্ণতা দিতে আগামী শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে ধুমধাম করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কনের পরিবার। বর্তমানে ভাড়া বাসার সামনে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে এবং স্বজনদের মাঝে দাওয়াতপত্র বিতরণ করছেন কনের বাবা।
সম্প্রতি চীনে বিদেশি কনে নিয়ে প্রতারণার বেশ কিছু খবর প্রকাশ পাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে কনের পরিবার।
লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও যাবতীয় খোঁজখবর নিয়েছি। সব তথ্য সঠিক পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সাহেবকেও জানিয়েছি। তিনি খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর ছেলে-মেয়েকে তাঁর কাছে নিয়ে দেখা করিয়েছি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামাই চীনে গিয়ে ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবে।
এদিকে বিদেশি জামাইয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে মোহনগঞ্জের দৌলতপুরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চীনা যুবককে এক নজর দেখতে এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে স্থানীয় উৎসুক জনতা প্রতিনিয়ত কনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, পত্রপত্রিকায় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের খবর দেখে প্রথমে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবে যেহেতু মেয়ের বাবা চীনা দূতাবাস ও ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তাই সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমরা নবদম্পতির সুখী জীবনের জন্য দোয়া করি।
এসএ/টিএ