অবসরে যাওয়ার দুদিন আগে নিজ বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩০ এএম | ৩০ জুলাই, ২০২৬
সিলেটে নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক সাবেক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যে রাতে নগরীর বাগবাড়ির নরসিংটিলা এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির।
নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মনোজ কান্তি দাস (৫৫)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন তিনি। আগামী ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মনোজ কান্তি দাসের স্ত্রী মারা যান। এরপর বর্তমানে মনোজ কান্তি দাস বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার বাসায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। বাসাটির নিচতলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়েরা থাকলেও দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন মনোজ কান্তি দাস।
সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে রাতে বাসায় ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রাতে স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের মেঝেতে মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বাগবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে এক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।
মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
এমআই/টিএ