ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই নিজেকে গড়তে চান আইশা খান
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৮ পিএম | ৩১ জুলাই, ২০২৬
অভিনয়ের জগতে আলোচনায় থাকার চেয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে তোলাকেই বেশি গুরুত্ব দেন আইশা খান। কাজের সংখ্যা নয়, বরং প্রতিটি চরিত্রের গভীরতায় ডুবে যাওয়াকেই তিনি মনে করেন একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় অনুশীলন। সেই বিশ্বাস নিয়েই ছোট পর্দা ও বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখার পর এবার বড় পর্দায় অভিষেক হলো তাঁর। প্রসূন রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘শেকড়’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চিত্রনায়িকা হিসেবে দর্শকের সামনে এলেন তিনি।
উপস্থাপনা দিয়ে পথচলা শুরু হলেও খুব অল্প সময়েই অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন আইশা। নাটক, বিভিন্ন বিশেষ প্রযোজনা ও ওয়েবভিত্তিক কনটেন্টে তাঁর সংযত এবং স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অতিনাটকীয়তা বা অকারণ চমকের বদলে সহজ-সরল উপস্থিতিই তাঁকে দর্শকের কাছে আলাদা করে তুলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বড় পর্দায় যুক্ত হলো তাঁর নতুন পরিচয়।
আজ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘শেকড়’। ছবিটিতে আইশা অভিনয় করেছেন ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন এফ এস নাঈম। পাশাপাশি আরও একঝাঁক অভিনয়শিল্পী এতে অভিনয় করেছেন। তবে প্রথম চলচ্চিত্র হওয়ায় ছবিটির কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন আইশাই।

অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, শেকড়ের সন্ধান এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘শেকড়’। নির্মাতা প্রসূন রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মানুষ, মাটি ও স্মৃতির অদৃশ্য বন্ধনের এক আবেগঘন গল্প।
দেশে মুক্তির পর আগামী ২ আগস্ট কানাডায় ছবিটি মুক্তি পাবে। এরপর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশের দর্শকের জন্য ছবিটির স্প্যানিশ সংস্করণও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে আইশার।
নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আইশা বলেন, ‘শেকড়’ তাঁর ক্যারিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় তিনি আনন্দিত। দর্শক হলে গিয়ে ছবিটি দেখবেন-এটাই তাঁর প্রত্যাশা। তাঁর বিশ্বাস, ছবির গল্প এবং চরিত্র- দুটিই দর্শকের ভালো লাগবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চলচ্চিত্রেরই নিজস্ব একটি যাত্রা থাকে। নির্মাতার হাত ধরে সেই যাত্রা শুরু হলেও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই একটি কাজ পূর্ণতা পায়। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। সেই গল্প দর্শকের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটিই এখন জানতে চান দর্শকদের কাছ থেকে।
তবে প্রথম সিনেমা মুক্তির পরই নতুন কাজের ব্যস্ততায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে চান না আইশা। তাঁর ভাষায়, সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়, বরং আরও ভালো হওয়ার দায়। তাই আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। এখনও তিনি নিজেকে শেখার পর্যায়েই মনে করেন। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে ভবিষ্যতে পর্দায় ফিরতে চান।
আইশা জানান, তিনি থিয়েটারের পটভূমি থেকে আসেননি। তাই প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছেন। প্রতিটি চরিত্র তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তাঁর কাছে এই শেখার পথই সবচেয়ে বড় অর্জন। আর সেই কারণেই ‘শেকড়’কে তিনি শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, নিজের শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
সম্ভাবনাময় এই যাত্রার শুরুতে বড় পর্দায় নিজের প্রথম পদচিহ্ন রেখে আইশা খান এখন দর্শকের রায়ের অপেক্ষায়। অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলাই তাঁর আগামী দিনের লক্ষ্য।
এসএ/এসএন