যুক্তরাষ্ট্রে জরিমানার মুখে ভারতীয় আইনজীবী
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৩ পিএম | ৩১ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী মক্কেলদের পক্ষে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক অভিবাসন আইনজীবী মোটা অঙ্কের জরিমানার হুমকির মুখে পড়েছেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার (৪ কোটি রুপি) দেওয়ানি জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
গত ২৮ জুলাই জরিমানার আবেদন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানানো হয়। সুরজ রাজ সিং নামের এই আইনজীবী পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মক্কেলদের হয়ে অভিবাসন মামলা পরিচালনা করেন। তিনি মূলত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা লড়েন।
সুরজ রাজ সিং ৫৪টি রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলায় ১১৮টি জালিয়াতিপূর্ণ নথিপত্র তৈরি ও জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া প্রতিটি আবেদনে একই ভাষা, বিবরণ ও তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন ব্যক্তির করা আবেদনের নিপীড়নের বিবরণগুলোও হুবহু কপি-পেস্ট করা বলে মনে হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার কাছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ ডলার জরিমানা দাবি করা হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, এই ধরনের জালিয়াতিপূর্ণ আশ্রয়ের দাবি মার্কিন জনগণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের দেশছাড়া করতে বিলম্ব ঘটায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রশাসন এই ধরনের মামলায় জড়িত ব্যক্তি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
সুরজ রাজ সিং এর বিরুদ্ধে জরিমানার আবেদন শঙ্কিত করেছে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুরজ সিং যে ৫৪টি আবেদন করেছিলেন সেগুলো বাতিল তো হবেই, আবেদনকারীদের কালো তালিকাভূক্ত করে ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যাতে তারা ভবিষ্যতেও আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারেন।
তারচেয়ে বড় কথা হলো, সুরজ রাজ সিং এর এ ঘটনার পর ভারত বা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের করা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনগুলো মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অত্যন্ত কড়া নজরদারিতে রাখবেন।
জমা দেয়া নথিপত্রের খুটিনাটি যাচাই করা হবে। তাতে আবেদন নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগবে। আশ্রয়ের অনুমতি পাওয়ার হারও অনেক কমে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সাথে এই ঘটনা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীরের পথচলা আরো অনেক কঠিন করে তুলবে।
টিকে/