© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

না ফেরার দেশে ইতালিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসি

শেয়ার করুন:
না ফেরার দেশে ইতালিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০২ পিএম | ৩১ জুলাই, ২০২৬
ইতালিয়ান ফুটবলের স্বর্ণযুগের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার, এসি মিলানের কিংবদন্তি অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। ৬৬ বছর বয়সে শুক্রবার (৩১ জুলাই) মারা গেছেন ইতালির সর্বকালের অন্যতম সেরা এই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দীর্ঘদিনের ক্লাব এসি মিলান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক আবেগঘন বার্তায় এসি মিলান লিখেছে, ‘ফ্রাঙ্কো বারেসির বিদায়ে এসি মিলানের পুরো ইতিহাস আজ অশ্রুসিক্ত। তার সততা, নেতৃত্ব ও আদর্শ চিরকাল ক্লাবের ডিএনএর অংশ হয়ে থাকবে, ঠিক যেমন অমর হয়ে থাকবে তার কিংবদন্তিতুল্য ৬ নম্বর জার্সি।’

গত বছর বারেসির ফুসফুসে একটি নডিউল ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এরপর ক্যানসার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিলানো-কর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অলিম্পিক মশাল বহন করেছিলেন বারেসি। তার সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইতালির আরেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জিউসেপ্পে বের্গোমি।

ফ্রাঙ্কো বারেসির পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার কেটেছে এসি মিলানেই। ১৯৭৭ সালে অভিষেকের পর টানা ২০ বছর রোসোনেরিদের জার্সিতে খেলেছেন তিনি। এই সময়ে জিতেছেন ৬টি সিরি ‘আ’ শিরোপা এবং ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ৩টি ইউরোপিয়ান শিরোপা। টানা ১৫ মৌসুম মিলানের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

১৯৯৭ সালে অবসরের পর তার সম্মানে কিংবদন্তি ৬ নম্বর জার্সি স্থায়ীভাবে অবসর দেয় এসি মিলান। ক্লাবটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম ফুটবলার, যার জার্সি নম্বরকে অবসর দেয়া হয়। বারেসির ক্লাবের প্রতি আনুগত্য ছিল অনন্য। আশির দশকের শুরুতে এসি মিলান দুইবার সিরি ‘বি’-তে অবনমিত হলেও তিনি ক্লাব ছাড়েননি। বরং দলকে আবারও শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে এনে পরবর্তীতে ইউরোপের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করার ভিত্তি গড়ে দেন।

জাতীয় দলের হয়েও বারেসির অবদান সমান উজ্জ্বল। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালিকে অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে তুলেছিলেন। সেই ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজিত হয় ইতালি, যেখানে বারেসিও পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তবে সেই বিশ্বকাপেই তার লড়াকু মানসিকতা ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৫ দিন পরই তিনি মাঠে নেমে ফাইনালের পুরো ১২০ মিনিট খেলেছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন বারেসি। প্রায় দুই দশক ধরে ইতালির রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি।

যে সময়ে শক্তি ও শারীরিক সামর্থ্যই ছিল একজন ডিফেন্ডারের প্রধান পরিচয়, সে সময় বারেসি নিজেকে আলাদা করেছিলেন অসাধারণ খেলার বুদ্ধিমত্তা, অবস্থান নির্বাচন এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে। প্রচলিত ‘সুইপার’ ভূমিকাকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন তিনি। শুধু রক্ষণ সামলানো নয়, পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন অসাধারণ দক্ষ। পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো কস্তাকুর্তা ও মাউরো তাসোত্তিকে নিয়ে গড়া এসি মিলানের কিংবদন্তি ডিফেন্সের নেতৃত্ব দিয়েছেন বারেসি। তাদের নিখুঁত অফসাইড ট্র্যাপ ও উচ্চ রক্ষণভাগের কৌশলই ফাবিও কাপেলোর মিলানকে সিরি ‘আ’-তে টানা ৫৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এনে দেয়। সেই দলই পরিচিতি পায় ‘গ্লি ইনভিনচিবিলি’ (দ্য ইনভিন্সিবলস) নামে।

বারেসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি লিখেছেন, ‘তিনি শুধু ইতালিয়ান ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা চ্যাম্পিয়নই নন, ছিলেন আনুগত্য, সততা ও নিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ।’

সাবেক সতীর্থ পাওলো মালদিনি আবেগঘন বার্তায় বলেন, ‘শৈশবে তুমি আমাকে আগলে রেখেছিলে, তরুণ বয়সে পথ দেখিয়েছ, আর প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছ। তোমার সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়াই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।’

ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, রোমা, নাপোলিসহ ইতালির শীর্ষ ক্লাবগুলোও শোক জানিয়েছে। স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ তাকে অভিহিত করেছে, ‘এসি মিলান, ইতালিয়ান ফুটবল এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সর্বকালের সেরা কিংবদন্তি’ হিসেবে।

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো বারেসির ক্লাবের প্রতি আজীবন আনুগত্যকে ‘রোমান্টিক সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এই সিদ্ধান্তই তাকে কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় দলের ম্যাচগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা হবে ইতালির এই মহান ফুটবল সন্তানকে।

টিকে/

মন্তব্য করুন