ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, কে হতে পারেন বিকল্প?
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩২ পিএম | ৩১ জুলাই, ২০২৬
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া ফলে ক্রমেই চাপে পড়ছেন। বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা প্রকাশ্যে আপত্তি জানাচ্ছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন সভাপতির চেয়ার ধরে রাখা তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে চারটি নাম।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ফিফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে তারা ফিফার সব প্রতিযোগিতা, এমনকি বিশ্বকাপও বর্জন করবে। সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোটার্স ইউরোপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (#InfantinoOUT) হ্যাশট্যাগও চালু করেছে।
উয়েফার পাশাপাশি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এএফসি ফিফার শাসনব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ফিফা নিজেদের অবস্থানে অনড়। সংস্থাটির দাবি, "ফুটবল বিক্রি করা হচ্ছে না" এবং এ নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তার জন্য "ভুল সংবাদ প্রকাশ" দায়ী।
উয়েফার সদস্য দেশগুলোর একটি অংশ চাইছে, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী একজন প্রার্থী দাঁড় করাতে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত নাম উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। ২০১৬ সাল থেকে উয়েফার দায়িত্বে থাকা স্লোভেনিয়ান এই আইনজীবী ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের সমালোচক। বিতর্কিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে বর্তমানে তিনি ফিফা সভাপতির নির্বাচনে লড়ার চেয়ে উয়েফাতেই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বেশি আগ্রহী বলে জানা গেছে।
ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিকে নিয়ে। কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান আল-খেলাইফি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) প্রধানও। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে তার প্রভাব বেড়েছে।
বেলজিয়াম, পোল্যান্ডসহ উয়েফার কয়েকটি সদস্যদেশ তাকে সমর্থন দিতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে তার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো ইচ্ছা আল-খেলাইফির নেই।
পোল্যান্ডের ক্লাব লেগিয়া ওয়ারশর মালিক দারিউশ মিওদুস্কির নামও আলোচনায় এসেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি ও স্পেনের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে নিজ দেশ পোল্যান্ডের ফুটবল ফেডারেশন এখনো আল-খেলাইফিকেই বেশি সমর্থন দিচ্ছে।
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানির নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। কানাডিয়ান এই ফুটবল প্রশাসক ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিক্রমে কনকাকাফের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। ভবিষ্যতে ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ তার রয়েছে বলেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। যদিও কনকাকাফ ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে, তবে উয়েফার মতো বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেয়নি।
২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
একেএস/টিএ