ভারতে এবার ‘জেন আলফার’ আন্দোলন!
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৯ পিএম | ৩১ জুলাই, ২০২৬
ভারতের বিহার রাজ্যে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার দাবিতে প্রায় ৪ কিলোমিটার পদযাত্রা করে। তারা শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে স্থানীয় মহকুমা প্রশাসকের (এসডিএম) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
‘জেন আলফা’ শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী আন্দোলনের পর প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক দিনের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, মঙ্গলবার বিহারের গয়া জেলার টিকারি মহকুমার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালীন স্কুল থেকে বের হয়ে টিকারি সাব-ডিভিশনাল অফিসে পৌঁছে অবস্থান নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসডিএম কার্যালয়ের সামনে বসে তাদের বিভিন্ন দাবি পূরণের আহ্বান জানাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, স্কুলে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই, টয়লেট অস্বাস্থ্যকর, শ্রেণিকক্ষে ফ্যান ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, মিড-ডে মিলের মান নিম্নমানের, সময়মতো ইউনিফর্ম দেওয়া হয় না এবং পাঠদানের পরিবেশও সন্তোষজনক নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টিকারির এসডিএম প্রবীণ কুন্দন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে সহকারী জেলা সরবরাহ কর্মকর্তা চন্দন কুমার, নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ সিং এবং ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা যোগেন্দ্র পাসওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের স্কুল পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় এসডিএম মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি ফিরে এসে তিনজন ছাত্রীসহ ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কথা বলেন। এরপর প্রধান শিক্ষককে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে তদন্ত দল স্কুলে গিয়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই শুরু করে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাসংস্কারের দাবিতে দেশটিতে বড় আন্দোলন হয়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে এই আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সরকার শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি মেনে নেয়।
এসএ/টিকে