© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশা, রাশিয়ার এমআরএনএ টিকা প্রথম রোগীর শরীরে কার্যকর

শেয়ার করুন:
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশা, রাশিয়ার এমআরএনএ টিকা প্রথম রোগীর শরীরে কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত

তানভীর আহমদ চৌধুরী
০১:০৯ পিএম | ০১ আগস্ট, ২০২৬
মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের চিকিৎসায় রাশিয়ার উদ্ভাবিত এমআরএনএভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’ নিয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছেন দেশটির গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, টিকাটি গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ভালো আছেন।

টিকাটির উন্নয়নে যুক্ত গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দর গিনজবার্গ বৃহস্পতিবার রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে বলেন, রোগীর শরীরে এমন প্রতিরোধী উপাদান তৈরি হচ্ছে, যা রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে টিউমার ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষ (মেটাস্টেসিস) শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে সহায়তা করবে।

গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত দুটি নতুন ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর একটি উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি এমআরএনএভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’। অন্যটি হলো কলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো নিওঅনকোভ্যাক মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়। ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারে আক্রান্ত, তাঁর শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে তিনি মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

গিনজবার্গ জানান, রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াজুড়ে তাঁর রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করবেন গবেষকেরা।

এদিকে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেলানোমা টিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেগুলো প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন গিনজবার্গ।

রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রে কাপরিনের ভাষ্য, এটি ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। প্রচলিত চিকিৎসার মতো শুধু ক্যানসার কোষ ধ্বংস করাই নয়, এই প্রযুক্তি রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে নিজেই লড়াই করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

এই পদ্ধতিতে প্রথমে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য আলাদাভাবে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ চিনে নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, কলোরেক্টাল ক্যানসারের ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে গামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন প্রজন্মের চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

টিএ/

মন্তব্য করুন