ক্যারিয়ারে এই প্রথম রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫১ এএম | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম এক বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকের সঙ্গে তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের কাবেরি জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার জন্য অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও তার দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে বিরোধী দলগুলো। তবে ক্ষমতাসীন টিভিকে সরকার বিরোধী দলের এই দাবি স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
সরকারের অভিযোগ, রাজ্যের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তি ও ঝামেলা তৈরি করাই বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্য।
উপকূলীয় ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলে বিরোধী দল ডিএমকে প্রশ্ন তুলেছে—সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে মুখ্যমন্ত্রী কেন এত ইতস্তত করছেন?
মেকেদাতু বাঁধ ইস্যু তুলে ধরে বিরোধী নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কর্ণাটক সরকার ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে একটি সর্বদলীয় বৈঠক করে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ু সরকারেরও একই পথে হাঁটা উচিত ছিল বলে দাবি তাদের।
তবে বিরোধীদের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ টিভিকে নেতা সি টি আর নির্মল কুমার। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
নির্মল কুমার বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত সমর্থনেই বিধানসভায় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এর পর আবার নতুন করে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার কী প্রয়োজন? ডিএমকে তামিলনাড়ুর কৃষকদের কল্যাণের চেয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সমস্যা তৈরি করতেই বেশি আগ্রহী।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএমকে-র শীর্ষ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে কাবেরি বিরোধের প্রতিটি বড় মোড়ে ডিএমকে বা এআইডিএমকে—উভয় সরকারই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে রাজ্যের রাজনৈতিক ঐক্য প্রদর্শন করত। তবে বিজয়ের টিভিকে সরকার এবার একেবারেই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।
জানা গেছে, সমস্যা মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজেই বেঙ্গালুরু গিয়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে কর্ণাটকে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই সফর স্থগিত করা হয়।
সব সমালোচনা সত্ত্বেও টিভিকে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তারা কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত এবং কোনো অবস্থাতেই কাবেরি নদী থেকে তামিলনাড়ুর ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে এই ইস্যুতে চাপ আরও বাড়াতে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। কাবেরি ও কৃষক সমস্যা নিয়ে টিভিকে সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ৩ আগস্ট তাঞ্জাবুরে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ডিএমকে।
একেএস/টিএ