তারেক রহমান সাহেব সংগীতবোদ্ধা মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৮ এএম | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’। সিলেটের একজন স্কুল শিক্ষিকার রিলসকে কেন্দ্র করে গানটি নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সেই সময় গানটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও পছন্দের ছিল। গানটি কীভাবে তৈরি হয়েছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। রাইজিংবিডিকে সেই গল্প শুনিয়েছেন গানটির গীতিকার আশরাফ বাবু।
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি যখন জনপ্রিয় হয়, তখন তারেক রহমান সাহেবেরও এটি পছন্দের ছিল। তারও গান খুব প্রিয় ছিল। দেশি-বিদেশি সব ধরনের গান শুনতেন। ছাত্রজীবনে তিনি ও তার ভাই দুজন গিটার শিখতেন। তাদের সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় যেতেন, মানুষের সঙ্গে মিশতেন— সেটা খুব স্বাভাবিক ছিল। এখন তো আর সেই সুযোগ নেই।
তারেক রহমান সাহেবের শিল্পবোধ প্রখর ছিল। তিনি বিভিন্ন স্টুডিওতে যেতেন—গান শোনার জন্য, শেখার জন্য। বাচ্চু (আইয়ুব বাচ্চু) ভাইয়ের স্টুডিওতেও আসতেন তিনি। পরে কারো মাধ্যমে বা কারো সঙ্গে তিনি আমার কাছেও একদিন এসেছিলেন। এসে বললেন, ‘আপনার এই (শ্রাবণের মেঘগুলো) গানটা আমার খুব ভালো লেগেছে। আপনি এটা কীভাবে করলেন?’ এমন দু-তিনটি সাধারণ প্রশ্ন করেছিলেন। নিশ্চয়ই গানটি তার খুব ভালো লেগেছিল বলেই তিনি জানতে চেয়েছিলেন। এরপর তিনি আমাকে এরকম কিছু গান করে দিতে বললেন।
সেদিন স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবু, সুরকার-সংগীত পরিচালক মকসুদ জামিল মিন্টু, গিটারিস্ট সেলিম হায়দার এবং যিনি গান রেকর্ড করতেন তিনি (নামটি এখন মনে করতে পারছি না)। গান নিয়ে সেদিন আলোচনা হচ্ছিল। আমাকে গান করে দেওয়ার জন্য বলার পর জানতে চাইলেন, গানগুলো কাকে দিয়ে গাওয়ানো যায়? আমি বললাম, ‘শ্রাবণের মেঘ’ টাইপের গান করতে গেলে যে ছেলেটাকে দরকার, সে আর দেশে নেই, কানাডা চলে গেছে। সে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ছিল। তবে তাদের ব্যান্ডে আরেকজন ছেলে আছেন—মেজবাহ। সে ভালো গায়। তাকে বলা যেতে পারে। তিনি সম্মতি দিলেন।
আমি খুলনায় গিয়ে মেজবাহকে বললাম, এভাবে গান করতে হবে। পরে সে ঢাকায় এলো ঠিকই, কিন্তু আমার গান আর গাইল না। একটু চালাকি করে এস আই টুটুলকে দিয়ে চারটি গান তৈরি করে তারেক রহমান সাহেবকে খুশি করতে চাইলেন। কিন্তু আমার জানা মতে, তারেক রহমান সাহেব সেই গানগুলোর মধ্যে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় গানের ছোঁয়া পেয়েছিলেন। যেহেতু গানগুলো একই স্টুডিওতে রেকর্ড হয়েছিল, তাই হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, গানগুলো আমিই করেছি। সে কারণে আমার প্রতি তার হয়তো কিছুটা বিরূপ ধারণা হয়েছিল। অথচ আমি সেই গানগুলো করিনি।
আমি তখন পাঁচটি গান প্রস্তুত করেছিলাম। মেজবাহ আসবেন, আমরা গান তুলে দেব তারপর সে নিয়ে যাবে—এটাই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সে আমাদের কাছে আর আসেনি। আমাদের কাছ থেকে ধারণা নেওয়ার পর, নিজেই গান তৈরি করে এস আই টুটুলকে দিয়ে মিউজিক কম্পোজ করিয়ে একই স্টুডিওতে রেকর্ডিং করেন। পরে তারেক রহমান সাহেবের কাছে খবর যায় যে, মেজবাহ এই স্টুডিওতেই গান করছেন। তাই তিনি দ্বিতীয়বার আবার স্টুডিওতে আসেন। তিনি ভেবেছিলেন, মেজবাহ যেহেতু এখানে গান করছেন, নিশ্চয়ই আমাকে যে গান করার কথা তিনি বলেছিলেন সেগুলোই হচ্ছে।
কিন্তু স্টুডিওতে গিয়ে গানগুলো শুনে দেখেন, সেগুলো নয়; বরং অন্য ধরনের সুরে অন্য গান করা হয়েছে। তখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি তো এ ধরনের গান করতে বলিনি! এটা তো ভারতীয় গানের মতো।’ আমার মনে আছে, প্রতীক চৌধুরীর একটি গানের সঙ্গে মিল ছিল।
এরপর আর আমার সঙ্গে তারেক রহমান সাহেবের কোনো যোগাযোগ হয়নি। সেই সময়ে যতটুকু কথাবার্তা হয়েছিল, তাতে আমার মনে হয়েছে—তারেক রহমান সাহেব একজন সংগীতবোদ্ধা মানুষ। ওই বয়সে তার চিন্তাভাবনা অনেক পরিণত ও উঁচুমানের ছিল।
এফআর/টিকে