রান্নাঘরে ২ মিনিটে ৫ বার সাপের ছোবল, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন নারী
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৬ এএম | ০৪ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার ঝিল পিপারিয়া গ্রামে সাপের দংশনের শিকার গৃহবধূ রাধা বাই দীর্ঘ লড়াই শেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। রান্নাঘরে কাজ করার সময় একটি বিষধর কালনাগিনীর আকস্মিক আক্রমণ তার জীবনকে চরম সংকটে ফেলেছিল।
গত ১৩ জুলাই দুপুরে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন রাধা বাই। এ সময় রান্নার বাসনের পাশে লুকিয়ে থাকা প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি কালো সাপ হঠাৎ করেই তার ডান হাতের তালুতে আঘাত করে।
আতঙ্কে তিনি হাত ঝাড়া দিলে সাপটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের ব্যবধানে তার হাতে পরপর পাঁচবার ছোবল বসায় সাপটি, যার বিষক্রিয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান।
পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। কিন্তু সাপের বিষ দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় ওঝা ব্যর্থতা স্বীকার করেন এবং রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দেন।
পিপারিয়া সিভিল হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দেখেন রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার চোখ বন্ধ এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শরীরে তাৎক্ষণিক অ্যান্টি-স্নেক ভেনম প্রয়োগ করেন।
চিকিৎসার শুরুতে মাত্র চল্লিশ মিনিটের মধ্যে দশটি এবং পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার ভেতর সর্বমোট পঁয়ত্রিশটি ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় রাধা বাই-এর শরীরে। বিষের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় হাতের একটি আঙুল ফুলে সংক্রামিত হওয়ায় পরবর্তীতে জেলা হাসপাতালে তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
বিশ দিনের দীর্ঘ চিকিৎসাপর্ব শেষে অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন রাধা বাই। তবে দিনমজুর স্বামীর পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধকল সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন সরকারি সহায়তা প্রত্যাশা করছে।
কেএন/এসএন