© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জনগণের ভেতরের পারমাণবিক শক্তিকে ফ্যাসিস্টরা ভুলে যায়: রিজভী

শেয়ার করুন:
জনগণের ভেতরের পারমাণবিক শক্তিকে ফ্যাসিস্টরা ভুলে যায়: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০৯ এএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের ভেতরের যে পারমাণবিক শক্তি থাকে, সেটি বিস্ফোরিত হলে ফ্যাসিস্টের ময়ূরের সিংহাসন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ শক্তির কথাই স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট ও নিপীড়নকারীরা বারবার ভুলে যায়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল এক ঐতিহাসিক বিপ্লব। ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডের গ্লোরিয়াস রেভল্যুশন কিংবা ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের কথা আমরা শুনেছি। স্বাধীনতার যুদ্ধ ও নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানও দেখেছি। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রক্তঝরা যে বিপ্লব হয়েছে, যার পরিণতি ৫ আগস্ট, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবদান’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক এবং শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের এ আত্মত্যাগ বিশ্বের সব স্বৈরাচার, অগণতান্ত্রিক শক্তি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অসংখ্য গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই বিপ্লবের সফল পরিণতি এসেছে।

শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো স্বৈরশাসকদের ইতিহাস আমরা জানি। কিন্তু তারা নিজের দেশকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা একদিকে ব্যাংক লুট করেছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে, অর্থ আত্মসাৎ করেছে, জমি দখল করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এত লোভী ও ভয়ংকর স্বৈরাচারের নজির বিরল।

তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে মানুষের রক্ত ঝরানোর পর জনগণই শেষ পর্যন্ত সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। ৫ আগস্ট জনগণের শক্তির কাছে তারা শিমুল তুলার মতো উড়ে গেছে।

জুলাই আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ১৯ জুলাই গ্রেফতার হওয়ার আগে ১১ জুলাই থেকে তিনি প্রতিদিন ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কোটা আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচির প্রতি বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন। তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয় এবং এর ফলে জুলাই বিপ্লবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, আজ কেউ যদি জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব নিজেদের পাতে ঢালতে চায়, ইতিহাস তা গ্রহণ করবে না। ইতিহাস জোর করে বদলানো যায় না। জনগণের হৃদয়ে যে ইতিহাস লেখা থাকে, পুলিশ, আদালত কিংবা রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি দাবি করেন, ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব জনগণ কখনো ভুলবে না। একইভাবে জুলাই আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনার ইতিহাসও উপেক্ষা করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের বিগত সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন