© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মৃত্যুর আগে সব সঞ্চয় গৃহপরিচারিকার নামে লিখে যান অভিনেতা রঙ্গনাথ

শেয়ার করুন:
মৃত্যুর আগে সব সঞ্চয় গৃহপরিচারিকার নামে লিখে যান অভিনেতা রঙ্গনাথ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৭ পিএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
তেলেগু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রঙ্গনাথের মৃত্যু এক দশক পরও আলোচনায় আসে তার অভিনয়জীবনের জন্য যতটা, তার চেয়েও বেশি আসে জীবনের শেষ সিদ্ধান্তের কারণে। আত্মহত্যার আগে পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত গৃহপরিচারিকার নামে নিজের সমগ্র সঞ্চয় লিখে যাওয়ার ঘটনাটি সে সময় গোটা বিনোদন অঙ্গনকে বিস্মিত করেছিল।

চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া তিরুমালা সুন্দর শ্রী রঙ্গনাথ অভিনয়ে আসার আগে ভারতীয় রেলওয়েতে টিকিট সংগ্রাহক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে পরিচালক বাপুর ‘বুদ্ধিমন্তুদু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। সেই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আক্কিনেনি নাগেশ্বর রাও ও বিজয়া নির্মলা। এরপর নায়ক হিসেবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। পরে খলনায়ক ও বিভিন্ন চরিত্রাভিনেতার ভূমিকাতেও সমান দক্ষতার পরিচয় দেন।

প্রায় ৪৬ বছরের অভিনয়জীবনে তিন শতাধিক চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেন রঙ্গনাথ। ‘জমিদারুগারি আম্মায়ি’, ‘আমেরিকা আম্মায়ি’, ‘পান্তুলাম্মা’, ‘থায়ারাম্মা বাঙ্গারায়্যা’, ‘থ্রি দিওয়ারিন’, ‘মনমধুডু’ এবং ‘নিজাম’সহ একাধিক আলোচিত চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

পেশাগত সাফল্যের মধ্যেও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা আসে ২০০৯ সালে, যখন তার স্ত্রী মারা যান। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি গভীর বিষণ্নতা ও একাকীত্বে ভুগছিলেন বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিনেতার মেয়ে নীরজা জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার বাবা একাধিকবার আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত কাউন্সেলিংও করানো হচ্ছিল।

অবশেষে ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর, ৬৬ বছর বয়সে হায়দরাবাদের নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেন রঙ্গনাথ। মৃত্যুর আগে ঘরের দেয়ালে কালো মার্কার দিয়ে তিনি পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা লিখে যান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তার দেখাশোনা করা গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষীর হাতে নিজের সমস্ত সঞ্চয় তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। দেয়ালে লেখা সেই বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘এটি তাকে দিয়ে দিও, তাকে কোনোভাবে বিরক্ত কোরো না।’

তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারিবারিক বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে মৃত্যুর আগে তিনি বি দেবদাসসহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বিদায়বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনার দিন বিকেলে রঙ্গনাথের সঙ্গে শেষবার দেখা করেন তার গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষী। প্রতিদিনের মতো রান্নার কাজ শেষ করে তিনি চলে যান। পরে সন্ধ্যায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানাতে কয়েকজন তার বাড়িতে এলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি অভিনেতার মেয়ে নীরজাকে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে রঙ্গনাথের মরদেহ উদ্ধার করেন।

মৃত্যুর সময় এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান এই অভিনেতা। শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর সন্তানরা বাবার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার লিখে যাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা রঙ্গনাথের সমগ্র সঞ্চয় দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষীর হাতে তুলে দেন। অভিনয়জীবনের অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রের পাশাপাশি জীবনের শেষ সিদ্ধান্তও তাই আজও রঙ্গনাথকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন