জুলাই জাদুঘর নির্মাণে সাবেক উপদেষ্টার স্মৃতিচারণকয়েক হাজার মানুষের পরিশ্রমের যোগফল এটা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৯ পিএম | ০৫ আগস্ট, ২০২৬
চব্বিশের গণ- অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মিত হয়েছে জুলাই গণ- অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। বুধবার (৫ আগস্ট) জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে দীর্ঘ এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
জাদুঘরটি বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়াকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘লিটারালি যুদ্ধ’ হিসেবে।
ফেসবুক পোস্টে ফারুকী লেখেন, “এটা ছিল একটা যুদ্ধের মতো। মন্ত্রণালয়ের শত শত কাজের মধ্যে জুলাই জাদুঘরের কাজ এক বছরের মধ্যে একটা শেইপে আনা ছিল লিটারালি যুদ্ধ। এই যুদ্ধ আমার আয়ু কেড়েছে, কেড়েছে আরও অনেক কিছু। কিন্তু শত শত শহীদ যেখানে জীবন দিয়েছে, সেখানে এই সব যুদ্ধ আর এমন কী?”
ফারুকী জানান, শূন্য থেকে জাদুঘরটি দাঁড় করানোর পেছনে অসংখ্য মানুষের দিন-রাতের পরিশ্রম রয়েছে। তিনি স্থপতি তানজিম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম, সংশ্লিষ্ট পুরো টিম, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তৎকালীন সচিব মফিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে তিন বছরের বেশি সময় এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতো। তাই নিজেদের সক্ষমতা নিয়েই কাজ শুরু করেন তারা।
তার ভাষায়,“কয়েক হাজার মানুষের পরিশ্রমের যোগফল এটা। আমরা যখন ইন্টারন্যাশনাল কনসালট্যান্টের সাহায্য নিতে গেছি তখন দেখলাম তাদেরকে সময় দিতে হবে তিন বছরের উপর এবং কনসালট্যান্সি বাবদ দিতে হতো বিশাল অংকের টাকা। আমরা তখন আমাদের যা কিছু আছে তা নিয়াই নেমে পড়লাম।”
পোস্টে ফারুকী দাবি করেন, এখন পর্যন্ত যারা জাদুঘরটি ঘুরে দেখেছেন, তারা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস, ফরাসি দৈনিক লা মোঁদ এবং জার্মানির ডেইলি টাজ জাদুঘরটির প্রশংসাসূচক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। তবে এসব কৃতিত্ব তিনি নিজের নয়, পুরো টিমের বলে উল্লেখ করেন।
নিজের নেতৃত্বের ধরন নিয়েও আত্মসমালোচনা করেন ফারুকী। তিনি লেখেন, টিম লিডার ও আর্টিস্টিক ডিরেক্টর হিসেবে তিনি কখনও কঠোর ছিলেন। কাজের চাপের কারণে চিৎকার বা বকাঝকা করে থাকলে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমাও চান।
ফারুকীর মতে, জুলাই জাদুঘরের কাজ এখানেই শেষ নয়। বরং এটি সবসময় ‘ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’ থাকবে। তিনি বলেন,“এই জাদুঘর সব সময়ই ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস একটা জিনিস হবে। জুলাই এবং ষোলো বছর একটা বিশাল সমুদ্রের মতো। একবারে এর সবটা আঁটা যাবে না। আমাদের ৮৩৫জন গেজেটেড শহীদ। ৮৩৫টা ডকুমেন্টারি বানাতেইতো কয়েক বছর লেগে যাবে। এরকম হাজারো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ধীরে ধীরে যুক্ত হবে নিশ্চয়ই।”
জাদুঘর নিয়ে কেমন পরিকল্পনার ছিলো, সে কথাও তুলে ধরেন সাবেক এই সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তার ভাষায়, জাদুঘরটি শুধু জুলাই অভ্যুত্থান বা গত ১৬ বছরের ঘটনাপ্রবাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের কয়েক শত বছরের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিলো।
পোস্টের শেষাংশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ধারণাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি রাখার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
এসএ/টিএ