ভারতকে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদে কি বলা হয়েছে দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩১ এএম | ০৬ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ তীব্র ক্ষুব্ধ যে, পলাতক ও দণ্ডিত গণহত্যার আসামি শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সাথে প্রত্যক্ষ আলাপচারিতায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি ও তাঁর অনুচরেরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও তার জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ কটূক্তি করেছেন।
ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলছে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনের উপর এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে পূর্বেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য সভাটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যেদিন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি একটি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি একটি গুরুতর অপমান।

জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তথ্য, যার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদী শাসনের দ্বারা নাবালক শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত, তা অস্বীকার করা পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার অপরাধী সহযোগীদের দ্বারা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি নিষ্ফল প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমাদের জনগণ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে, আমাদের জাতি আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো একটি করদ রাষ্ট্র হবে না। দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার মাফিয়া চক্রের কোন স্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় থাকবে না।
বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার উপর ভিত্তি করে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে লাভজনক এবং প্রগতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক। দুর্ভাগ্যবশত, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারবার করা অনুরোধের এখনও কোনো সাড়া মেলেনি। বরং, যেকোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়াটা আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হানে এবং যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
এমআই/টিএ