শেখ হাসিনাকে সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদ ও দেশের সার্বভৌমত্বকে অপমান করেছে ভারত: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত
০২:১৩ পিএম | ০৬ আগস্ট, ২০২৬
বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দিয়ে ভারত জুলাই শহীদদের রক্ত ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের সময়ে জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও সেবামূলক কাজ থেকে ড্যাবের চিকিৎসক কখনো বিরত থাকেননি বলে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নানা ধরনের নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার মুখেও চিকিৎসকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে যাননি। অনেককে দুর্গম এলাকায় পদায়ন করা হলেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন।
তিনি বলেন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, বন্যা, করোনা, ডেঙ্গু ও হামসহ প্রতিটি জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। করোনা মহামারির সময়ও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল পরিচালনার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা তা করতে দেয়নি।
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের সহায়তায় আয়োজন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের পলাতক আসামি। বিভিন্ন হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে চিঠিও দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান আচরণ।
প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রত্যাশা করে। তবে একজন পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সেই পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিপন্থী। শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ।
রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটে। অথচ সেই দিনেই দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের একটি অংশ।
তিনি বলেন, যে গণআন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই আন্দোলনের স্মরণীয় দিনে শহীদদের আত্মত্যাগকে অপমান করার জন্যই শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জ্বালানি সংকট, ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষাকে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে করা এবং শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রিজভী বলেন, যখন দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের পথে এগোচ্ছে এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন শেখ হাসিনার মতো ‘পলাতক ফ্যাসিস্টকে’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অসম্মানজনক আচরণ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে অতীতের মতো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. খালেকুজ্জামান দীপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আরআই/টিএ