‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কামান্ডার, সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫০ পিএম | ০৮ আগস্ট, ২০২৬
‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সন্দেহ, ঘটনাটি কেবল একজন কর্মকর্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় একটি বড় কোনো গোয়েন্দা চক্র বা স্পাইওয়্যার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
প্রদতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় দুই মাস আগে গ্রেপ্তার হওয়া এই কর্মকর্তা একজন উইং কমান্ডার। তার বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময় পার করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় ওই উইং কমান্ডারের। পরে অডিও ও ভিডিও কলেও তাদের আলাপচারিতা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই নারী প্রথমে কর্মকর্তার বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরে সামরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নানা তথ্য চাইতে শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে , ওই কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের চলাচল, মোতায়েন এবং অন্যান্য সংবেদনশীল সামরিক তথ্যাবলি ওই নারীর কাছে হস্তান্তর করেছেন।
দিল্লি পুলিশ ধারণা করছে, ওই নারী পাকিস্তানি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। ভারতীয় বিমান বাহিনীর এই কর্মকর্তা মূলত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর শিকার হয়েছিলেন।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামরিক ইউনিটের অবস্থান ও চলাচলের ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য বিবরণ শেয়ার করতে বলা হয়েছিল ওই কর্মকর্তাকে। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডেটাও ওই নারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন।
তথ্য আদান-প্রদানের এই মাত্রা কতটা গভীরে ছিল এবং এসব তথ্য ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
তদন্ত চলাকালীন এই ঘটনার আরও একটি উদ্বেগজনক দিক সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা যেন তার এক সহকর্মীর মোবাইল ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করে দেন, সে সংক্রান্ত নির্দেশনাও দিয়েছিলেন ওই নারী।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, অ্যাপটি কোনও স্পাইওয়্যার বা রিমোট-অ্যাক্সেস মেলওয়্যার হতে পারে। এই ধরনের সফটওয়্যার সাধারণত মোবাইলের ডেটা চুরি, লোকেশন ট্র্যাক করা কিংবা কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তকারীদের মতে, পুরো বিষয়টি কেবল একজন কর্মকর্তার থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং অন্যান্য প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং তাদের তথ্য পাওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা নারীটিকে পাকিস্তানভিত্তিক কিছু এজেন্ট বা চালক নিয়ন্ত্রণ করছিল। সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা শাখার নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৩০ মে গভীর রাতে ওই উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠায়। বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এমআই/টিএ