© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

স্যোশাল মিডিয়ায় উত্তেজনামূলক-আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির

শেয়ার করুন:
স্যোশাল মিডিয়ায় উত্তেজনামূলক-আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৭ এএম | ০৯ আগস্ট, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আলেমরা শুধু মসজিদের ইমামতি ওয়াজ-নসিহত কিংবা খুতবার মধ্যে নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখবেন না। জাতির ক্রান্তিলগ্নে সঠিক পথনির্দেশনা, নেতৃত্ব ও আদর্শিক ভূমিকা পালনে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। প্রস্তাবনা পেশ ও সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. লুৎফুর রহমান মাদানী।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলেমদের চিন্তা ও মত সবসময় এক হবে না। অতীতেও মতপার্থক্য ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে মতের ভিন্নতার কারণে কাউকে অসম্মান করা যাবে না। কেউ সমালোচনা বা কটূক্তি করলেও পাল্টা কটূক্তি না করে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের জন্য দোয়া করতে হবে এবং তার বক্তব্যে কোনো কল্যাণকর বিষয় থাকলে তা গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। কেউ আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণ না করে ধৈর্য ও সংযমের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ইসলামি জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে আলিয়া ও কওমি—দুই ধারার শিক্ষারই প্রয়োজন রয়েছে। আলিয়া শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, আর কওমি শিক্ষায় শিক্ষিতরা দ্বীনের মৌলিকত্ব ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই কোনো একটি ধারাকে বাদ না দিয়ে উভয় ধারার আলেম ও শিক্ষিত মানুষকে সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, যে জাতি জ্ঞান ও গবেষণায় যত বেশি এগিয়ে যায়, সে জাতি বিশ্বকে তত বেশি নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে। তাই আলেমসহ সবাইকে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। ইসলামি জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণাকেও সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও বিভিন্ন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের আগে তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য, গবেষণা, দক্ষতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। তবে কেউ আক্রমণ চাপিয়ে দিলে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। ইসলামের যুদ্ধনীতি মূলত আত্মরক্ষামূলক ছিল।

জামায়াত আমির বলেন, কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর বিজয় নয়, আমরা মানবতার বিজয় চাই। মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর বিধান ও ন্যায়নীতির আলোকে মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশের মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আলেমদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব আরও নিবিড় ও সুন্দরভাবে পালন করতে হবে।

বর্তমান সমাজে মানুষের সম্মান, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আলেমদের সোচ্চার হতে হবে। সত্যকে সত্য এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।

তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতে গেলে বাধা আসতে পারে। কিন্তু সে কারণে হকের কথা বলা থেকে বিরত থাকা যাবে না। একই সঙ্গে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাও যাবে না।

দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করে বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, পারস্পরিক সম্মান, ঐক্য, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি ও মর্যাদার মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে আলেমদের। মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, সমাজ পরিবর্তন কিংবা একটি সভ্যতা ও পরিবারের পরিবর্তনে আলেমরা নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সমাজে ইসলামের বিভিন্ন বিধান ও ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করে ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আলেমদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সাতটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদরাসা ও কলেজে ইসলামি শিক্ষা সংকোচন বন্ধ করা, মাদরাসার নারী শিক্ষার্থীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশ প্রত্যাহার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উলামা-মাশায়েখদের হেয়প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা বন্ধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনসহ সব দেশের মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি।

সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা উলামা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন