সৌদিতে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু্ : চুল কাটতে গিয়ে বেঁচে গেছেন হাবিবুর
ছবি: সংগৃহীত
০২:২৩ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুনে মারা গেছেন ১৬ বাংলাদেশি, তবে ঘটনার সময় বাইরে থাকায় এক কর্মী বেঁচে গেছেন। ওই বাংলাদেশির নাম হাবিবুর রহমান।
গতকাল রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে। এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন মারা যান।
বেঁচে যাওয়া হাবিবুরের বরাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে চুল কাটানোর জন্য তিনি সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন, কারখানায় আগুন জ্বলছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালিত কারখানাটিতে মোট ১৭ জন কাজ করতেন।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্র দূতাবাসকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। বাকীরা কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন দেশটির ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাত ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মরদেহগুলো কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক সহযোগিতা করেন সায়েখ আফতাবউদ্দিন ফারুক।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহতরা হলেন—নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গণ্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন ও মো. সুমন, মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল ও মজিদুল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের শামিম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাংগাপাড়া গ্রামের শ্যামলও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে।
কেএন/এসএন