© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য খাতের সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত

শেয়ার করুন:
অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য খাতের সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪৩ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা সময়। এবার সেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য খাতের সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেছে তারা। পুরোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) পক্ষ থেকে টেন্ডার মূল্যায়নে একই ব্যক্তি একাধিক কমিটিতে দফায় দফায় থাকা এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ করার অভিযোগ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ জন্য গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিএমএসডি, নিমিউসহ সংশ্লিষ্ট অধীনস্থ সংস্থার প্রধানরা বৈঠকে বসেন।

সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা দরকার। পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পরিবর্তন-পরিবর্ধন আনা প্রয়োজন। এজন্য তারা ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করা হবে। সমস্যা থাকলে তা সমাধানের পর টেন্ডার কার্যক্রম চালু করবে সরকার।

দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে গুটি কয়েক ব্যক্তি নিমিউতে থাকায় তারাই ঘুরেফিরে বিভিন্ন হাসপাতালের টেন্ডার মূল্যায়ন করেন। যার কারণে অসদুপায়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেন। অথচ আগে এই কমিটিগুলোতে বুয়েটের প্রতিনিধি থাকতেন। শিক্ষকরা তুলনামূলক সৎ। আর ঘুরেফিরে গুটি কয়েকের আসার সুযোগ নেই। অনেক শিক্ষক, একেকজন একেক সময় আসেন।

এ বিষয়ে একজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে দেশের একটি গণমাধ্যম। নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ঠিকাদার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সব জায়গায় টেন্ডারের টেকনিক্যাল ইভালুয়েশনের (কারিগরি মূল্যায়ন) জন্য কমিটিতে নিমিউর প্রতিনিধি থাকে। প্রকৃতার্থে অন্যরা টেকনিক্যাল পার্সন না হওয়ায় নিমিউর প্রতিনিধির মতামতের ওপর সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে গুটি কয়েক ব্যক্তি নিমিউতে থাকায় তারাই ঘুরেফিরে বিভিন্ন হাসপাতালের টেন্ডার মূল্যায়ন করেন। যার কারণে অসদুপায়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেন। অথচ আগে এই কমিটিগুলোতে বুয়েটের প্রতিনিধি থাকতেন। শিক্ষকরা তুলনামূলক সৎ। আর ঘুরেফিরে গুটি কয়েকের আসার সুযোগ নেই। অনেক শিক্ষক, একেকজন একেক সময় আসেন।’

তিনি বলেন, ‘সিএমএসডি ২০২৫ সাল থেকে তাদের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে নিমিউর প্রতিনিধি বাদ দিয়ে বুয়েটের প্রতিনিধি রাখছে। আমরা চাই, সব জায়গায় এভাবে নিমিউ বাদ দিয়ে বুয়েটের প্রতিনিধি নেওয়া হোক।’

কর্মকর্তা আছে আমার পাঁচজন। এখন চারটা কমিটিতে আমি কাকে রেখে কাকে রাখবো? জনবল সংকটের কারণে আমাকে এটা করতে হচ্ছে। যদিও ঠিক না।

নিমিউ অ্যান্ড টিসির ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া গেছে, বর্তমানে সেখানে ১৬ জন কর্মকর্তা আছেন। ঠিকাদারদের দাবি, এই ১৬ কর্মকর্তার মধ্যে শুধু প্রধান পরিবর্তন হয়, বাকিরা গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে ঘুরেফিরে কাজ করছেন। যার কারণে এক ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার মূল্যায়নে থাকছেন। স্বচ্ছতার জন্য নিমিউর পরিবর্তে বুয়েটকে টেন্ডার মূল্যায়নে রাখলে ভালো হয়।

নিমিউ অ্যান্ড টিসির চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার (উপসচিব) জয়ন্ত কুমার মুখোপাধ্যায় দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম না। এ বিষয়ে জানা নেই।’

তবে একই ব্যক্তি একাধিক কমিটিতে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তা আছে আমার পাঁচজন। এখন চারটা কমিটিতে আমি কাকে রেখে কাকে রাখবো? জনবল সংকটের কারণে আমাকে এটা করতে হচ্ছে। যদিও ঠিক না।’

আমরা সেই ব্যবস্থা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। সে কাজটা সহজ না। পুরোনো মানুষগুলো রয়ে গেছেন বিভিন্ন জায়গায়। পুরোনো সিস্টেমগুলো রয়ে গেছে। এই কারণেই আমরা কয়েকদিন সময় নিচ্ছি। পলিটিক্যাল লেভেলে কিছু বিষয় আলোচনা করে আমরা কিছু পরিবর্তন এনে সুন্দরভাবে যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে, জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজগুলো হয়, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি অভিযোগ হলেও মন্ত্রণালয় সিরিয়াসলি নিয়েছে। এরইমধ্যে টেন্ডারের নীতিমালাসহ পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে বলেছে। এগুলো দেখে পরে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের বিষয় শুনতে পেয়েছি, জানতে পেরেছি। তো এই বিষয়গুলো ক্ল্যারিফাই না করা পর্যন্ত আমাদের সরকার চাচ্ছে যে, অতীতের সরকারের আমলে এই স্বাস্থ্য খাতে এবং অন্যান্য খাতের মতোই শেখ হাসিনা সরকার যে দুর্নীতির একটা ক্ষেত্র তৈরি করেছিল এবং ব্যাপক দুর্নীতি এবং লুটপাট হয়েছে। আমরা সেই ব্যবস্থা থেকে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বের করে আনার চেষ্টা করছি। 

তিনি বলেন, সে কাজটা সহজ না। পুরোনো মানুষগুলো রয়ে গেছেন বিভিন্ন জায়গায়। পুরোনো সিস্টেমগুলো রয়ে গেছে। এই কারণেই আমরা কয়েকদিন সময় নিচ্ছি। পলিটিক্যাল লেভেলে কিছু বিষয় আলোচনা করে আমরা কিছু পরিবর্তন এনে সুন্দরভাবে যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে, জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজগুলো হয়, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন