© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেয়া সেই ঋতু পেল জিপিএ-৫

শেয়ার করুন:
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেয়া সেই ঋতু পেল জিপিএ-৫

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪১ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে মেধাবী এ শিক্ষার্থীর।

ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলালেই ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিল।

সেদিন ভোরে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষবারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার।বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু।

সোমবার (১০ আগস্ট) ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন বলেন, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনও শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন