কাশ্মীরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ব্রিটিশ নাগরিক নিহত
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫২ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় মোহাম্মদ আখতার নামে এক ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত আখতার ইংল্যান্ডের পিটারবরোর বাসিন্দা ছিলেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন কাশ্মীরের কোটলি শহরে অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, আখতার বিক্ষোভে অংশ নেননি; বরং তার বাড়ির কাছেই বিক্ষোভ চলছিল এবং তিনি একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট বুলেটের আঘাতে নিহত হন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আখতারের বুকের এক পাশে বুলেটের ক্ষত পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার অভাব ও হয়রানির ভয়ে নিহতের পরিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ বা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চাওয়ার সাহস পায়নি।
আখতারের মৃত্যুর পাশাপাশি ওয়াকাস আরিফ (৩৮) নামে নটিংহ্যামের আরেক ব্রিটিশ নাগরিক গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ৫ জুন বিক্ষোভ চলাকালে তাকে আটক করা হয়। তার পরিবারের দাবি, তিনি কোনো প্রতিবাদের সাথে যুক্ত ছিলেন না, কিন্তু তার ভাইয়েরা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
কাশ্মীরে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামক একটি নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী অর্থনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। পাকিস্তান সরকার এই সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং গত ৫ জুন থেকে ওই অঞ্চলে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)। গত ৭ আগস্ট এক নির্দেশনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের ওই অঞ্চলে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে নিষেধ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পাকিস্তান সরকারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তানি হাই কমিশন এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
এসএ/এসএন