© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গলায় রামদা ধরে এমপির বাড়ি-জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

শেয়ার করুন:
গলায় রামদা ধরে এমপির বাড়ি-জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩৮ এএম | ১১ আগস্ট, ২০২৬
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। 

অন্য আসামিরা হলেন, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে নেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে বাধা দিলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শেলী চৌধুরী মেঝেতে পড়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাকে দেখতে ওই বাড়িতে যান। তিনি ঘটনাটি দেখতে পান। পরে মঈন উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিব হাসানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে পারভিন আক্তার মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি আমলে নিয়ে আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দিরাই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। 

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

আইনজীবী কাওছার আলম পারভিন আক্তারের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিষয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নাছির যখন স্ট্রোক করে তখন তারা গলায় দা ধরে এই বাড়ি নিয়ে যায়। তখন সে অসুস্থ ছিল। এই বাড়ি নিয়ে সে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে। এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই সে বাড়িটি করেছিল। বাড়িটি ফিরে পেতে সে অনেক আগে আবেদন করেছিল। পরে আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার পর আমি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। আজ দুপুর ১টার দিকে আদালতে উঠি। বিচারক কাগজপত্র দেখে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আগে দেখি অভিযোগটা কী। মামলা হয়েছে, সেটাও জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেব।

গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আসলে সত্যি নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন