হোটেলকক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুললেন স্ত্রী!
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৩ এএম | ১১ আগস্ট, ২০২৬
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষের দরজার পাশে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে (২৪) রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এ সময় তাদের ১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতিহা আক্তারকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিলেক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় পুলিশ লাইনে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তার স্ত্রী উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। একই সঙ্গে কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যা ফাতিহা আক্তারকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, ‘আমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও তাদের ১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান রবিবার দুপুর ২টার দিকে হোটেলে এসে ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে তারা দুইবার হোটেল থেকে বের হয়েছিলেন। পরে রাতে তারা কক্ষে ফিরে আসেন। এরপর কোনো ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সোমবার সকালে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি অন্যদের জানাই।
পরে দীর্ঘক্ষণ পর ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রী দরজা খুলে দেন। কক্ষে গিয়ে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।’
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই কক্ষে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। রবিবার দুপুরে তারা হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ এবং তার স্ত্রী কিভাবে রক্তাক্ত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের পর জানা যাবে।’
এমআর/টিএ