৮ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি, ক্ষোভে স্কুল বন্ধ করে বাড়ি চলে গেলেন প্রধান শিক্ষিকা
ছবি: সংগৃহীত
০২:০২ এএম | ১১ আগস্ট, ২০২৬
পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কেউ পাস করেনি। বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল দেখে নির্ধারিত ছুটির আগেই স্কুল বন্ধ করে বাড়ি চলে যান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। ৭ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীদের এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বিদ্যালয়টি থেকে নিয়মিত ৭ জন ও একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই ৮ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং তার বিপরীতে শিক্ষক আছেন মোট ৭ জন। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীর দাবি, একসময় বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল। বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার মান বাড়েনি। তাঁদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে যথাযথ তদারকি নেই। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি হয়ে যায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিও না থাকায় কোনো জবাবদিহি নেই। এ ছাড়া শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কথা বলা হলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্লাসে দেখা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিভাবক বাসুদেব বলেন, 'আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। ৪-৫টি প্রাইভেট পড়িয়েছি। কিন্তু স্কুলে স্যাররা কী করছেন, বলতে পারছি না। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্লাস হয়নি। কোনো দিন ১০টায় গিয়ে ১১টায় চলে এসেছে, আবার কখনো স্যাররা না থাকায় শিক্ষার্থীরাও চলে এসেছে।'
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাছলিমা আক্তার বলেন, 'এ বছর বিদ্যালয় থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কেউ ঠিকমতো পড়াশোনা না করায় পাস করেনি। তা ছাড়া শিক্ষক সংকট থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। একসময় মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিলেন। অঙ্ক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন না। এ কারণে ঠিকমতো ক্লাস হয়নি। পরে শিক্ষক পাওয়া গেছে। এখন সাতজন শিক্ষক আছেন। প্রায় এক বছর শিক্ষক না থাকায় সমস্যা ছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাস করে না। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। তবে গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে চায় না, শিক্ষার্থীদের বাবা-মাও তেমন সচেতন নন।'
নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ দেখে মন খারাপ হয়েছিল, তাই স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে এসেছি। তবে নিয়মিত ৪টা পর্যন্ত স্কুল খোলা থাকে।'
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী? তারা পড়াশোনা করে না বিধায় ফেল করে।'
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক শোভন দাস বলেন, 'পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আটজন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি। এ বিষয়ে আমরা বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, তাদের গণিত এবং ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন না। এ ছাড়াও দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত না হওয়া এবং তাদের কিছুটা অবহেলার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
এমআর/টিএ