বাংলা কিউআর লেনদেনের চার্জ শূন্য, মিলবে বাড়তি প্রণোদনা
ছবি: সংগৃহীত
০২:২২ এএম | ১১ আগস্ট, ২০২৬
ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে প্রণোদনা যা পাবেন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবাদানকারীরা।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা সোমবার পৃথক দুই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি (‘কোডভিত্তিক পেমেন্টে ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) সবার জন্য শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘ইস্যুয়িং’ প্রতিষ্ঠান আর ‘অ্যাক্যুয়্যারিং’ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো ফি বা সেবা মাশুল পাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজ করা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনা এবং একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
অপরদিকে বাংলা কিউআর দিয়ে লেনদেন বাড়াতে নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে এনপিএসবির বিপরীতে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে।
ব্যাংক কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ (বিকাশ, নগদের মত অ্যাপ) ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধকারীকে ‘ইস্যুইং ইনস্টিটিউশন’ হিসেবে ০.২ শতাংশ হারে এবং বিক্রেতা বা মার্চেন্ট হিসেবে অর্থগ্রহণকারীকে ‘অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান’ ০.১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
তবে প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কোনো একক লেনদেনকে কৃত্রিমভাবে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করা, লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে ‘ট্রানজ্যাকশন স্ট্রাকচারিং’ করা বা অন্য কোনো কৌশল নেওয়া যাবে না।
এছাড়া ব্যর্থ ও বাতিল হওয়া লেনদেনের বিপরীতেও কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রয়োজনবোধে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সহায়ক নথি যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী এসব তথ্য ও নথি সরবরাহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে ভুলবশত প্রণোদনা দেওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা ফেরত নিতে বা পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।
কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ‘অ্যাকুয়্যারিং’ প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে।
কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এর আগে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের ফি ও চার্জ নিয়ে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো সংশোধিত বা বাতিল বলে গণ্য হবে।
এমআর/টিএ