হাসপাতালে এমপির পরিদর্শন ঘিরে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২১ পিএম | ১২ আগস্ট, ২০২৬
মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খানের সঙ্গে থাকা লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি বিভিন্ন আউটসোর্সিংয়ের কর্মীর পরিচয়পত্র এবং তাদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজনের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছাত্রদলের এক কর্মীকে থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাহিদ মোহাম্মদ সানি বলেন, রবি নামে আমাদের এক কর্মীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফটের কাছে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। জামায়াতের কর্মীরা তাকে দেখে মারধর করলে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান হাসপাতাল থেকে বের হয়ে মেহেরপুর ওজোপাডিকোর চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেন।এদিকে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা জামায়াতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খানকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতাল কি বর্তমানে বিএনপির একটি পক্ষের কাছে জিম্মি হয়ে আছে? সংসদ সদস্য হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে কিছু অতিরিক্ত আউটসোর্সিং লোকবল দেখতে পান। তাদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম তাদের হাসপাতালে নিয়োগ দিয়েছেন। এ সময় ছাত্রদলের একজন কর্মী আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করলে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাকে একটি থাপ্পড় দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে আমাদের ওপর হামলা ও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের সুপারের বৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া কর্মচারীদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের এমপির সঙ্গে থাকা লোকজন তাদের মারধর করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন জামায়াতের এমপির ওপর চড়াও হন। তিনি জেলার একজন অভিভাবক হিসেবে জামায়াতের ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন। আমি এর নিন্দা জানাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খানকে নিরাপদে সরিয়ে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমআই/টিএ