বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে: ছাত্রশিবির সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৫ এএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বেকারত্ব দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একেকটি শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। দেশের বেশিরভাগ বেকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আমরা মনস্তাত্ত্বিক দাসে পরিণত হয়েছি। জ্ঞান ও গবেষণায় বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে।
বুধবার (১২ আগস্ট) নগরীর শহিদ আমিনুল ইসলাম বিমান মিলনায়তনে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নগরীর প্রায় দুই শতাধিক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বেকার হওয়ার পেছনে মূল কারণ পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়া। যার ফলে গবেষণাক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতির বিষয়টি লক্ষণীয়। ফলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। অথচ সিঙ্গাপুর ১৯৬৫ সালে স্বাধীন হয়। সিঙ্গাপুরকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কান্নাকাটি করতে হয়নি। সিঙ্গাপুরকে বলা হয় "লিটল ড্রাগন"। সিঙ্গাপুর থেকে কেউ বিদেশে পড়তে গেলে তারা পুনরায় দেশে ফিরে আসে। আর আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে গিয়ে আর ফিরে আসেনা। পৃথিবীর সবচেয়ে 'হাই টেকিং ইন্ডাস্ট্রি' রয়েছে সিঙ্গাপুরে। তাদের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। আমাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ দুর্নীতি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সরকারি চাকরির জন্য পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয়। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোয়ালিটি দেখে চাকরি দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত মেধাবীরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারে না।
মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের পরিচালনায় আয়োজনে প্রধান বক্তা ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আহমেদ সালেহীন, কামরুল হাসান, এস এম বেলাল হোসেন, আব্দুর রশিদ, ফারহান তূর্য, ইমরানুল হক, সেলিম বিন আব্দুস সালাম, আদনান মল্লিক যুবরাজ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক হাফেজ মহিব্বুল্লাহ, ফাউন্ডেশন সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু, মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, মিডিয়া ও আইটি সম্পাদক মোস্তফা কামাল, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক শিবলুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক এহসানুল মাহবুব সাকিব প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুল, মিষ্টি, ক্রেস্টসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।
আরআই/টিএ