বিদ্যুৎ সংযোগ দিতেই পুড়ে গেলো ৩০০ বাড়ির টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪২ এএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় অকেজো ট্রান্সফরমার মেরামতের পর নতুন পোর্টেবল (বহনযোগ্য) ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ ওভারভোল্টেজের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি মহল্লার প্রায় ৩০০ বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, বৈদ্যুতিক বাল্বসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার রাত ২টার দিকে কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্মীদের আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাখরাবাজ এলাকায় মসজিদের সামনে থাকা একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে যায়। এতে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া ও বাখরাবাজ স্কুলপাড়া মহল্লায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়রা নেসকোর কাটাখালী কার্যালয়ে ফোন করে বিষয়টি জানান।
পরে নেসকোর কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অকেজো ট্রান্সফরমারটি মেরামত করেন। রাত ২টার দিকে একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়। সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের সামনে থাকা একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব পুড়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে নেসকোর কর্মীরা দ্রুত সংযোগ বন্ধ করে দেন। তবে এর আগেই তিনটি মহল্লার অনেক বাড়ির বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম পুড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় বেরিয়ে এসে নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন। এ সময় কয়েকজন তাদের মারধরও করেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নেসকোর কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এলাকার বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, “তিনটি মহল্লার প্রায় সব বাড়ির ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ জানাতে আমার বাড়িতে আসছেন। তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। অন্তত ৩০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানা বলেন, “আমার বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতির পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে গেছে। পোর্টেবল ট্রান্সফরমারটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই এসব পণ্য পুড়ে যায়। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।”
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে স্থানীয়ভাবে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, “ওই এলাকায় প্রায় ৩০০টি বাড়ি আছে। কার কী ক্ষতি হয়েছে, তার তালিকা করা হচ্ছে।”
ঘটনার বিষয়ে নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তিনটি লাইনের মাধ্যমে। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। এটি কোনো গ্রাহকের বাড়িতেও হতে পারে, আবার মূল লাইনেও হতে পারে। কোথায় হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।”
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। আমরা সব সময় ভালো কাজের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এখন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।”
তবে নেসকোর সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম জানান, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন তারা।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরআই/টিএ