ট্রাম্পের ওপর খেপেছেন সাংবাদিকরা
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৯ পিএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
জেনেশুনে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের ওপর খেপেছেন ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানে ইরান মিসাইল হামলা চালাতে পারে, এমন হুমকির মুখে গত ৮ জুলাই আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প।
কিন্তু তার সফরসঙ্গী সাংবাদিক, নিরাপত্তা রক্ষী এবং স্টাফরা বিপজ্জনক ঝুঁকিতে থাকা সেই বিমানেই আঙ্কারা ছেড়েছিলেন।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৭ জুলাই কাতার রাজপরিবারের দেয়া এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন রাজকীয় বিমানে চড়ে তুরস্ক যান ট্রাম্প। কিন্তু পরদিন তার ফিরে আসার সময় ঘটে নাটকীয় ঘটনা। এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানের বদলে পুরোনো বিমানে তিনি ফিরবেন বলে জানানো হয়।
তখন অবশ্য নিরাপত্তা হুমকির কথা স্বীকার করা হয়নি। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনারা যাতে ভালো করে নতুন বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন, সে জন্য্ এক দিন আগেই সেটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরে জানা গেছে, নতুন বিমানটি আরাম-আয়েশে রাজকীয় হলেও তাতে মিসাইল প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেই, যা পুরনো বিমানে আছে। তাই ডেকে পাঠানো হয় পুরোনো বিমানটিকে।
সবার চোখের সামনে ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে বসেন। সেখানে সাংবাদিকদের সাথে একটু হাসি-ঠাট্টাও করেন। তারপর সবার চোখের আড়ালে বিকল্প দরজা দিয়ে নেমে খাবার সরবরাহের ভ্যানে চড়ে রানওয়েতে অপেক্ষমান একটি ছোট সামরিক বিমানে করে আঙ্কারা ছাড়েন ট্রাম্প। আর তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকা বিমানটি আকাশে ওড়ে।
গত সোমবার ওয়াশিংটন পোস্ট ট্রাম্পের বিমান বদলের কথা ফাঁস করার আগে কেউ এটা সম্পর্কে জানতোই না।
ট্রাম্প এখন বলছেন, তিনি সিক্রেট সাভিসের পরামর্শেই এটা করেছেন। ৮ জুলাই সাংবাদিকরা এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে আরোহণের পর সিক্রেট সার্ভিস থেকে উড্ডয়নের সময় জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি নির্দেশনা। সাংবাদিবকরা এ ব্যাপারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি হালকা চালে জবাব দেন, ‘কারণ আমাদের যেসব নোংরা লোকজনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তাদের কারণে আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে আছেন।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি শেষ হয়ে যাই, আপনারাও যাবেন। ঠিক তো?’ কিন্তু এ কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি সাংবাদিকদের কিছু না জানিয়ে তাদের বিপদের মুখে রেখে বিমান বদলে ফেলেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিজেদের বিপদের মাত্রা বুঝতে পারছেন সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা। সফরসঙ্গী গণমাধ্যমকর্মীদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, অজান্তেই তাদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ কেউ হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং কমিউনিকেশন গ্যাপের অভিযোগ এনেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সফরসঙ্গীদের একজন সাংবাদিক বলেন, ‘আপনি যখন হোয়াইট হাউসে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন, এমনকি একজন বেসামরিক কর্মী হিসেবেও, তখন প্রেসিডেন্টের সুরক্ষা দেওয়া আপনার দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে সেটা আমার কাজ নয়। আমার কাজ শুধু প্রেসিডেন্টকে কভার করা। সাংবাদিকরা কাজের অংশ হিসেবে ঝুঁকি নেন, কিন্তু প্রেসিডেন্টের হয়ে বা তার স্বার্থে নয়।’ তবে সাংবাদিবদের ঝুঁকিতে ফেলার বিষয়ে ট্রাম্প বা হোয়াউট হাউস কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এসএন