বিনিয়োগ থেকে পার্সেন্টেজ? সমালোচনার মুখে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২২ পিএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
ভোলা–বরিশাল এবং শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আনাকে কেন্দ্র করে স্বার্থের সংঘাতের (Conflict of Interest) যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে ও স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ ইব্রাহিম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতিপিপিপি প্রজেক্টে জাপানি বিনিয়োগের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পার্সেন্টেজ সুবিধা পাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে এমন অভিযোগে বহু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখা যায়। সমালোচনার মুখে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। তিনি জানান, সেতু নির্মাণের ঠিকাদারি নয়, বরং পরামর্শক হিসেবে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) দেশে আনতে সহায়তা করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে কোনো সুবিধা নিয়েছেন কি না—এমন অভিযোগের জবাবে সাঈদ ইব্রাহিম বলেন, স্বার্থের সংঘাতের সংজ্ঞা বুঝতে হলে নূন্যতম পড়াশোনা ও তথ্যের প্রয়োজন।
তিনি স্পষ্ট করেন তাঁর বাবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, আর এই মেগা প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণভাবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বিনিয়োগ বা সেতু প্রকল্পের কোনো প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ নেই।
উদাহরণ টেনে তিনি সাবেক এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “দায়িত্বে থাকাকালীন নিজের বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স দেওয়া হলো স্বার্থের সংঘাতের সরাসরি উদাহরণ; কিন্তু স্বাধীনভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আনার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো যোগসূত্র নেই।”
সাঈদ ইব্রাহিম জানান, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতেই ‘স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জাপানি প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেৎসু (Miyagawa Kensetsu)-এর মাধ্যমে ভোলা–বরিশাল এবং শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতুর জন্য ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকার ও মনোনীত জাপানি প্রতিষ্ঠান সরাসরি বাস্তবায়ন করবে। সেতু নির্মাণের সঙ্গে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের কোনো ঠিকাদারি বা নির্মাণ সম্পৃক্ততা নেই। বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসে (McKinsey) বা বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (BCG) মতো স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল কেবল বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পের সংযোগকারী (facilitator) হিসেবে কাজ করেছে- এমন দাবি করেন সাঈদ ইব্রাহিম।
এমআর/টিএ