© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার নেই: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন:
ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার নেই: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৯ পিএম | ১৫ আগস্ট, ২০২৬
হিন্দু দায়ভাগা আইনের অধীনে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ওই ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ভাইয়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিকার দাবি করে করা এক দেওয়ানি রিভিশনে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রাখা হয়েছে।

‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস এবং অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী এবং অন্যান্য’ মামলায় এ রায় দেওয়া হয়। গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেন। এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম।

মামলাটি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে। মামলার নথি অনুযায়ী, রামকান্ত বিশ্বাসের এক ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। ১৯২০ সালে তিনি নিজের অর্থে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে পটিয়া উপজেলায় ১ দশমিক ৩৫ একর নালিশি জমি কেনেন। পরে সতীশ চন্দ্র বাবার জীবদ্দশাতেই মারা যান। এরপর ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাস মারা যান।

সতীশ চন্দ্রের স্ত্রী সাবিত্রী বালা পরবর্তীতে ওই জমি ১৯৯৬ সালে ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করেন। এর আগে রামকান্ত বিশ্বাসের মেয়ে শৌল বালা দাস জমিটির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি পটিয়ার আদালতে জমির উত্তরাধিকার দাবি করে দেওয়ানি মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, জমি বিক্রির দলিলটি জাল, প্রতারণামূলক এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়াই করা হয়েছে।

পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ২০০০ সালের ২২ জুন মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে শৌল বালা দাস ওই রায়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ আপিলটিও খারিজ করে দেন।

এরপর ওই রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করা হয়। একই বছর আদালত রুল জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই সেই রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, হিন্দু দায়ভাগা আইনের অধীনে স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তিতে স্বত্ব বা অধিকার লাভ করেন। তবে ওই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিধবার ক্ষমতা সীমিত।

আদালত আরও বলেন, বিধবা স্ত্রী সম্পত্তি কারও কাছে হস্তান্তর করলে সেই হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলতে পারেন না। কেবল বিধবার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে যিনি ‘রিভার্সনার’ হওয়ার অধিকারী, তিনিই হস্তান্তরটি আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বর্তমানে বা ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে আইনগত স্বার্থ বা অধিকার না রাখলে তিনি সম্পত্তি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না। শুধু হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ করা হয়নি এমন যুক্তিতে সম্পত্তিতে অধিকারহীন কোনো ব্যক্তি আদালতে মামলা করে ওই হস্তান্তর বাতিলের দাবি করতে পারবেন না।

রিভিশন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত এবং বিবাদীপক্ষে আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন