© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আম্মাই আমাদের ইসলাম শিখিয়েছেন, হিন্দু ধর্মের চর্চা হতো না: শর্মিলা ঠাকুরের মেয়ে

শেয়ার করুন:
আম্মাই আমাদের ইসলাম শিখিয়েছেন, হিন্দু ধর্মের চর্চা হতো না: শর্মিলা ঠাকুরের মেয়ে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪২ পিএম | ১৫ আগস্ট, ২০২৬
শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদি ছিলেন দুজন দুই ধর্মের। তাদের বিয়েকে ঘিরে আলোচনা কম হয়নি। এবার সেই সংসারে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন তাদের মেয়ে সাবা আলি খান পতৌদি।

সাবা জানালেন, শর্মিলা ঠাকুর সন্তানদেরও ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন। তবে কোনো ধর্মই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ‘বিগ বলিউড বাফস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাবা। তিনি বলেন, তার কাছে ইসলামই ধর্ম এবং আল্লাহর সঙ্গে তার গভীর আত্মিক সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অন্য সব ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।

সাবার ভাষায়, মনসুর আলি খান পতৌদির সঙ্গে বিয়ের পর শর্মিলা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সন্তানদেরও ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দেন। তাদের ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করতেই মা তাদের ইসলাম, রমজানসহ বিভিন্ন বিষয় শেখাতেন।



সাবা বলেন, ‘আম্মা ও আব্বা যখন বিয়ে করেন, আম্মা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং আমাদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। সম্ভবত যাতে আমরা বিভ্রান্ত না হই এবং একটা ভিত্তি পাই। আমাদের কোনো মন্দিরে যাওয়া হতো না, আমরা হিন্দু ধর্ম পালন করিনি। আম্মাই আমাকে আমার ধর্ম, ইসলাম, রমজান ও এসব বিষয়ে শিখিয়েছেন।’

তবে সন্তানদের ওপর ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন সাবা। তার মতে, শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের নিজের বিশ্বাস বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।

সাইফ আলি খান ও সোহা আলি খানের প্রসঙ্গ টেনে সাবা জানান, তার দুই ভাই-বোনই আন্তঃধর্মীয় বিয়ে করেছেন। পরিবারে কেউই কোনো ধর্ম কঠোরভাবে অনুসরণ করেন না। তার মতে, বিশ্বাস একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

শৈশবের পারিবারিক পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন সাবা। তিনি জানান, তাদের পরিবারে বড়দিন, দীপাবলি, হোলিসহ বিভিন্ন ধর্মের উৎসবই উদযাপন করা হতো। বাবা-মা সন্তানদের ওপর নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম চাপিয়ে দেননি- এটিকেই তিনি সঠিক পারিবারিক শিক্ষার অংশ বলে মনে করেন।

১৯৬৮ সালে ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদিকে বিয়ে করেন শর্মিলা ঠাকুর। আন্তঃধর্মীয় এই বিয়ের সময় নানা চাপ ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাদের। বিয়ের পর শর্মিলা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার নাম রাখা হয় আয়েশা।

সাবার সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এলো সেই বহুল আলোচিত পরিবারের ভেতরের ধর্মীয় পরিবেশের এক ব্যক্তিগত চিত্র- যেখানে ইসলাম ছিল তাদের পারিবারিক শিক্ষার অংশ, আবার পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতাও ছিল। 

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন