© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ড্রয়িংরুমে বিয়ে, নজর কাড়ল জর্জিনার ৫০ ক্যারেটের হীরা

শেয়ার করুন:
ড্রয়িংরুমে বিয়ে, নজর কাড়ল জর্জিনার ৫০ ক্যারেটের হীরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩২ পিএম | ১৭ আগস্ট, ২০২৬
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বিয়ে যতটা ব্যক্তিগত, তাদের বিয়ের দিনের ফ্যাশন ছিল ততটাই নজরকাড়া। জমকালো কোনো পাঁচ তারকা ভেন্যু নয়, নিজেদের বাড়ির ড্রয়িংরুমেই পাঁচ সন্তানকে পাশে রেখে বিয়ের শপথ নিয়েছেন এই জুটি।

ছোট ও ঘরোয়া আয়োজন হলেও ব্রাইডাল লুকে বিন্দুমাত্র কমতি রাখেননি জর্জিনা। বরং পোশাক, গয়না ও স্টাইলিংয়ে ছিল বিলাসিতা, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিকতার ছাপ।

বিয়ের তারিখও তাদের সম্পর্কের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ১১ আগস্টই প্রথমবার জর্জিনাকে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে দেখেছিলেন রোনালদো। সেই দিনটির স্মৃতি ধরে এক বছর আগে একই তারিখে বাগদান করেছিলেন তারা। এবার সেই দিনেই সারলেন বিয়ে।



১৬ আগস্ট ‘ভোগ’-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত বিশেষ ফিচারে উঠে এসেছে তাদের এই ঘরোয়া বিয়ের নানা গল্প। জর্জিনার বিয়ের দিনের লুকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গুচির পোশাক। বিশেষ দিনের জন্য তার এবং রোনালদোর পোশাকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গুচির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ডেমনার হাতে। এই পছন্দের মধ্যেও লুকিয়ে ছিল তাদের সম্পর্কের গল্প।

কারণ, মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরেই রোনালদোর সঙ্গে জর্জিনার প্রথম দেখা। ফলে বিয়ের পোশাকে একই ব্র্যান্ডকে বেছে নেওয়া যেন তাদের প্রেমের গল্পের শুরু থেকে বিয়ের দিন পর্যন্ত একটি সুন্দর বৃত্ত সম্পূর্ণ করার মতো।

ব্রাইডাল লুকে জর্জিনার সবচেয়ে বড় স্টাইল স্টেটমেন্ট ছিল তার হীরার গয়না। বিয়েতে বাগ্‌দানের বিশাল আকারের আংটির পাশাপাশি গলায় পরেছিলেন চপার্ডের ‘গার্ডেন অব কালাহারি’ নেকলেস। এই নেকলেসের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল ৫০ ক্যারেটের একটি ব্রিলিয়ান্ট-কাট হীরা। হীরাটির ডি-কালার ও ফ্ললেস মানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য লুকটিকে আরও এক্সক্লুসিভ করে তুলেছে। ডি হলো হীরার রঙের সর্বোচ্চ গ্রেড, আর ফ্ললেস মানে ১০ গুণ ম্যাগনিফিকেশনে দৃশ্যমান কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ত্রুটি নেই।

এত বড় ও বিরল হীরার নেকলেস পরেও জর্জিনার লুককে অতিরিক্ত ভারী মনে হয়নি। বরং গুচির পোশাকের সঙ্গে গয়নার সমন্বয় তৈরি করেছে একটি পরিশীলিত ব্রাইডাল স্টেটমেন্ট। তার বিয়ের সাজে রাজকীয়তার সঙ্গে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্য খুব বেশি অলংকার বা আনুষ্ঠানিকতার দিকে না গিয়ে একটি প্রধান স্টেটমেন্ট জুয়েলারিকে কেন্দ্র করে পুরো লুক সাজানো হয়েছে।



অন্যদিকে রোনালদোর বিয়ের দিনের ফ্যাশনও ছিল জর্জিনার লুকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুচির পোশাকে তাকে দেখা গেছে পরিপাটি ও আধুনিক বরসাজে। এই জুটির পোশাক নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ব্র্যান্ডের প্রতি তাদের ব্যক্তিগত গল্পের যোগসূত্র। তাই এটি শুধু বিয়ের পোশাক নয়, তাদের সম্পর্কের স্মৃতিকে ফ্যাশনের মাধ্যমে উদযাপনের একটি উপায় হয়ে উঠেছে।

বিয়ের দিনের ছবিগুলোতেও পোশাকের পাশাপাশি জুতা ও অন্যান্য অ্যাকসেসরিজে ছিল বিশেষ নজর। পুরো পরিবারের সদস্যদের বিয়ের দিনের জুতাতেও দেখা গেছে পরিকল্পিত স্টাইলিং। পাঁচ সন্তানকে ঘিরে রাখা এই বিয়ের ফ্যাশন তাই শুধু বর-কনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, পরিবারের প্রতিটি সদস্যই যেন এই বিশেষ দিনের ভিজ্যুয়াল গল্পের অংশ হয়ে উঠেছিল।

বিয়ের আগের দিনগুলোতেও রোনালদো ও জর্জিনার স্টাইল ছিল বেশ ফুরফুরে। কাসকাইশের নতুন সামার হাউসে তাদের জীবনযাপনের ছবিতে যেমন বিলাসিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে ব্যক্তিগত আরামের ছাপ।

এমনকি বিয়ের দিন সকালে দুজনকে নিজেদের বাড়ির জিমেও দেখা গেছে। অর্থাৎ রাজকীয় বিয়ের প্রস্তুতির মাঝেও তাদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইল ও ব্যক্তিগত রুটিন থেকে বিচ্ছিন্ন হননি তারা। অনুষ্ঠান শেষে তারা গাড়িতে করে যান ‘লেডি অব ফাতিমা’ নামের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথলিক তীর্থস্থানে। সেখানে তাদের জন্য আলাদা একটি প্রার্থনাস্থলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং একজন যাজক তাদের আশীর্বাদ করেন।

রোনালদো জানিয়েছেন, সাধারণত তিনি ভিড় এড়িয়ে চলেন। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানেও গোপনীয়তা বজায় রাখাটা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভবিষ্যতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আরও বড় করে বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। অর্থাৎ এবারের বিয়ে ছিল মূলত নিজেদের পরিবারের জন্য একটি ব্যক্তিগত অধ্যায়।

এই বিয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফ্যাশন বার্তা সম্ভবত এখানেই বিলাসিতা মানেই বিশাল আয়োজন নয়। জর্জিনা ও রোনালদো পোশাকে তুলে ধরেছেন ব্যক্তিত্ব, স্মৃতি ও আভিজাত্য। জর্জিনার ব্রাইডাল লুক হয়ে উঠেছে ছোট আয়োজনের মধ্যেও বড় ফ্যাশন স্টেটমেন্টের এক অনন্য উদাহরণ।

সূত্র: ভোগ

এসএ/এসএন



মন্তব্য করুন