দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে : ত্রাণমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৭ পিএম | ১৮ আগস্ট, ২০২৬
দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম সক্ষম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এমনকি বর্তমানে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত জারির সময়ও কার্যকরভাবে উদ্ধার ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা দেশের রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১২টি উপকূলীয় জেলার কাছে দুর্যোগকালীন উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য স্পিডবোট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগকালীন উদ্ধার সক্ষমতা আরো বাড়াতে জাইকার অর্থায়নে দেশের ১২টি উপকূলীয় জেলায় আধুনিক স্পিডবোট দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো ২৫টি জেলায় এসব উদ্ধারযান সরবরাহ করা হবে, যাতে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’
বিতরণ করা স্পিডবোটগুলো ডাবল ইঞ্জিনবিশিষ্ট হওয়ায় সমুদ্রে চার নম্বর বিপদ সংকেত চলাকালেও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।
দুর্যোগ মোকাবেলায় সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময় চট্টগ্রামে ব্যাপক অতিবৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। জাইকার অর্থায়নে পাওয়া বোর্ড থেকে একটি বোর্ড আমরা তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছিলাম উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করার জন্য।’
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের শুকনা ও রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকার নতুন ঘর নির্মাণ করছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ বিতরণ করছে।
ভূমিকম্প প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক লাখ ভলান্টিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার ভলান্টিয়ার চিহ্নিত করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, শিগ্গিরই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ঢাকা মহানগরে বড় ধরনের দুর্যোগ হলে লোকজনকে জমায়েত করার জন্য ৪৪৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও হেলিকপ্টারের তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ লাখ এবং ৯১ সালে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। কিন্তু এখন সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকখানি কমে গেছে। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা, তাই আমাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’
আরআই/টিএ