© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিক্ষকের কুপ্রস্তাব, মাশুল দিল ছাত্রী

শেয়ার করুন:
শিক্ষকের কুপ্রস্তাব, মাশুল দিল ছাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২০ এএম | ২১ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও কুপ্রস্তাব দিয়েছে একই বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন দৃষ্টান্ত ব্যবস্থা এখনও গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যেই তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন নুরুদ্দোহা সোহেল। অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপে বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুক্তভোগী ছাত্রী।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার গণিতের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল নিজ ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠান ও কুপ্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি পরিবার জানতে পারলে ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবর একটি অভিযোগ পত্র জমা দেওয়া হয়।
 
অভিযোগের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে দাখিল করা ১২ ফর্দের প্রতিবেদনে অভিযোগটি ‘সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তবসম্মত’ বলে উল্লেখ করা হয়। এতে অভিযুক্ত শিক্ষকের ‘চরম নৈতিক স্খলনের’ জন্য কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ওই শিক্ষকের বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে তিন দিনের ছুটি নেন। এরপর নতুন করে তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলের বাইরে থাকার কৌশল হিসেবে তিনি চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষক প্রথমে তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। পরে তিনি তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনটি ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের চিকিৎসা ছুটির আবেদনকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. শাহনুর জামান বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসা ছুটির আবেদন করা অযৌক্তিক। তাই তার ছুটির আবেদনের কোনো ফরওয়ার্ডিং পাঠানো হবে না। তার বেতনও ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী। একই বিদ্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কর্মরত থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তার পরিবার। ফলে মেয়েকে আর ওই বিদ্যালয়ে না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি। 

গতকাল বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্রের (টিসি) আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিনই শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও শেষ পর্যন্ত মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন