জেন-জি’র মন জয়ে ইনস্টাগ্রামে রিলস বানাচ্ছেন মোদি!
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৭ পিএম | ২২ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘদিন ধরে নিজের এক শক্তিশালী ও আনুষ্ঠানিক ভাবমূর্তি বজায় রাখলেও, সম্প্রতি তরুণ প্রজন্ম বা 'জেন-জি'-এর মনোযোগ আকর্ষণে তিনি এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর কন্টেন্টে এসেছে লক্ষণীয় পরিবর্তন, যেখানে তিনি আগের পূর্বলিখিত ও সতর্ক উপস্থিতির বদলে তরুণদের ভাষায় কথা বলার ও তাঁদের সাথে আরও খোলামেলা যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
৭৫ বছর বয়সী এই নেতা, যাঁর ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে, তিনি এখন 'আমার সাথে প্রস্তুত হোন' স্টাইলের ভিডিও বা সেলফি-বার্তার মতো অনানুষ্ঠানিক কন্টেন্ট পোস্ট করছেন। একটি স্নাতক অনুষ্ঠানে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় উক্তি ব্যবহার করে তিনি নিজেকে তাঁদের 'বন্ধু' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজেপির একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, ইনস্টাগ্রামে তরুণদের আকৃষ্ট করার এই নির্দিষ্ট কৌশল আগে দলটির প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির এই পরিবর্তনের মূল প্রভাবক হলো এ বছর ভারতে ঘটে যাওয়া যুব বিক্ষোভ। 'তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)'-র মতো একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মিম, লাইভস্ট্রিম ও রিলের মাধ্যমে এতই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৩৫ বছরের কম বয়সী এই জেন-জি প্রজন্ম দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোটব্যাংক গঠন করবে। তাই প্রচলিত রাজনৈতিক বার্তার বদলে ব্যক্তিগত ও অকপট কন্টেন্টের মাধ্যমে তাদের মন জয় করা দলটির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তবে মোদি ও তাঁর দলের এই নতুন কৌশল তরুণদের কাছে পুরোপুরি ইতিবাচক বা কাঙ্ক্ষিত সাড়া ফেলছে এমনটি বলা যাচ্ছে না। মোদির প্রথম দিককার সেলফি-ভিডিওগুলোতে তরুণ ব্যবহারকারীরা দ্রুত ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ভিডিওর নীরব অংশগুলো নিয়ে মিম তৈরি করে। তরুণদের মতে, ভিডিওগুলোতে তাদের ভাষা ব্যবহার করা হলেও তাঁদের মূল দাবি ও উদ্বেগগুলো উপেক্ষিতই থেকে গেছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয়োজিত পালের মতে, বিজেপির প্রচলিত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক প্রচারণার জন্য ইনস্টাগ্রাম একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এখানে অনুসারীর সংখ্যার চেয়ে কন্টেন্টের আবেগ ও এনগেজমেন্ট বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে এখানে কোনো ভিডিও পোস্ট করার পর তা কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে বা কী বয়ান তৈরি করবে, তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন।
শুধু মোদি বা বিজেপিই নয়, তরুণদের মন জয় করার এই লড়াইয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও শামিল হয়েছেন। তিনিও ইনস্টাগ্রামে 'আস্ক মি এনিথিং' সেশনের মতো কৌতুকপূর্ণ ও খোলামেলা কন্টেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এদিকে বিজেপি তাদের মন্ত্রী ও নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং ব্যর্থতার জেরে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানকেও সরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
কেএন/এসএন