সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে শিল্প খাতের সংকট কাটবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৪ পিএম | ২২ আগস্ট, ২০২৬
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট বিবেচনায় অধিক জ্বালানিনির্ভর শিল্পের বদলে স্বল্প বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সরকারের লক্ষ্য।
শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে নতুন একটি ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে দৈনিক সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করা সম্ভব। স্টোরেজ সুবিধা থাকলে সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও এই বিদ্যুৎ কাজে লাগানো যাবে।
তিনি বলেন, ‘সরকার গৃহীত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতের লোডশেডিং সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে।’ পাশাপাশি শিল্প প্লটে গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ধানের তুষ (রাইস হাস্ক) ও কয়লা ব্যবহারের একটি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ-ভারত স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকার কারণে তাদের কাঁচামালের দাম বেড়ে যায় বলে তারা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে দুটি ‘ট্রাস্টফোর্স’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব দুটি এফবিসিসিআইয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি এতে সমর্থন জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করতে চায়। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছে।
মার্কিন শুল্কারোপের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক শুধু বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয়নি। বাংলাদেশ যেসব দেশের ওপর তুলনামূলক কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেসব দেশের একটি।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ করা হয়েছে। এটিই সর্বনিম্ন, আরো কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে এ রকম আছে।
সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকও করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন, তার চেয়ে বড় কথা সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, সিলেটে আমরা মাদকের কোনো আনাগোনা দেখতে চাই না, অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এসব বিষয় নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পুলিশ কমিশনারকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার তাকে আশ্বস্ত করেছেন।
কেএন/এসএন