চীন থেকে ২০টি সর্বাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
১১:১৩ পিএম | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে চীন থেকে ২০টি সর্বাধুনিক ‘জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ সংগ্রহের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে সরকার। সম্পূরক ব্যয়সহ এই যুদ্ধবিমানগুলো কেনায় মোট খরচ হবে প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা(প্রতি মার্কিন ডলারের দর ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে)। এ লক্ষ্যে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি ইতিমধ্যে চুক্তির খসড়াও প্রস্তুত করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই পদক্ষেপের কথা জানান প্রদেয় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিটি যুদ্ধবিমানের মূল দাম ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। তবে বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লজিস্টিকস, অবকাঠামো ও কর যুক্ত হওয়ায় প্রতিটির পেছনে কার্যকর খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চীন সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'সিএটিআইসি'-র সঙ্গে সরাসরি জিটুজি (সরকার-থেকে-সরকার) পদ্ধতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরের বিশেষ থোক বরাদ্দের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় এই ব্যয় মেটাবে। সংগৃহীত বিমানের মধ্যে ১০টি সরাসরি বিমানবাহিনীর মূল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং বাকি ১০টি থাকবে অতিরিক্ত হিসেবে।
মূল বিমানের খরচের বাইরে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তায় ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার এবং ভ্যাট, বিমা ও পূর্তকাজে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নানা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সমমানের অন্যান্য বিমানের তুলনায় চীনের জে-১০সি অত্যন্ত সফল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়ার কারণেই এটি নির্বাচন করা হয়েছে।
চীনা প্রযুক্তির একক ইঞ্জিনের ‘জে-১০সিই’ মূলত সুপারসনিক গতির ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুর আকাশ, ভূমি বা সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইউএভি ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিমান সংযোজন দেশের সীমানা রক্ষায় এক বড় উল্লম্ফন ঘটাবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান জানান, কারিগরি দিক থেকে জে-১০সি বেশ কার্যকর। তবে এত বড় সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বিশ্বশক্তির সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো খেয়াল রাখাও সমান জরুরি।
এমআই/টিএ