© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

টেক্সাস থেকে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ বাবা-মা, ২ বোনের আহাজারি

শেয়ার করুন:
টেক্সাস থেকে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ বাবা-মা, ২ বোনের আহাজারি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৯ এএম | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন টেক্সাসের বাসিন্দা দীপ মধু আহুজা। কৈলাস পর্বতে দলবদ্ধ তীর্থযাত্রায় গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম উৎ-দিন কাটাচ্ছেন তাদের দুই মেয়ে শ্রেয়া ও আশনা আহুজা। প্রিয়জনদের সন্ধানে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনো নিশ্চিত কোনো খবর পাননি তারা।


বিবিসিকে দুই বোন বলেন, 'মাত্র একদিন হয়েছে, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন অনেক বেশি সময় কেটে গেছে। আমরা ওদের খুব ভালোবাসি এবং চাই ওরা বাড়ি ফিরে আসুক।'

বন্যা আঘাত হানার ঠিক আগে দুই বোনের একজন বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দীপক ও মধু আহুজা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গে কৈলাস পর্বতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র এই অঞ্চলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ তীর্থযাত্রায় যান।

বাবা-মায়ের সন্ধানে শ্রেয়া ও আশনা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পাশাপাশি দিল্লি, নেপাল ও চীনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাদের বাবা-মায়ের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৩৮০ ছাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বন্যায় প্রায় ৯০ জন মার্কিন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। ইতোমধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিককে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নেপালে মার্কিন দূতাবাস স্থানীয় ট্যুর অপারেটর ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তায় কাজ করছে।

দুর্যোগে নিখোঁজ আরেক মার্কিন দম্পতি নিউইয়র্কের রমেশ শর্মা ও নীলম শর্মা। তাদের মেয়ে রাধিকা শর্মা জানিয়েছেন, বন্যা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে সকাল ৮টার দিকে তার বাবা-মা সীমান্ত এলাকায় ছিলেন। এরপর থেকেই তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে ইশা ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি তীর্থযাত্রার অন্তত ৭৭ জন সদস্যও দুর্যোগের মধ্যে পড়েছিলেন। ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তের কাছে একটি ভবনে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রের কাজ চলার সময় হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি দেশের ৫০০-এর বেশি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই বিদেশি। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত অঞ্চলে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।

বন্যার কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে বরফধস ও ভূমিধসের আশঙ্কার কথা বলা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, শনাক্ত হওয়া ভূকম্পন শক্তি সম্ভবত ভূমিধস থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিবৃষ্টি কিংবা গলিত বরফের পানি মাটি ও বরফকে অস্থিতিশীল করে বড় ধরনের ভূমিধস বা তুষারধসের কারণ হতে পারে। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে বলেও সতর্ক করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই নির্দিষ্ট দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আকস্মিক বন্যায় বহু জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালের এক সরকারি কর্মকর্তার প্রাথমিক হিসাবে, অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন নেপালি রুপির বেশি।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউদেল। তবে শ্রেয়া ও আশনা আহুজার কাছে এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা একটাই কোনোভাবে যেন বাবা-মায়ের নিরাপদে থাকার খবর আসে এবং তারা আবার টেক্সাসের বাড়িতে ফিরে আসেন।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন