টিপস দিলেই বিপদ, ধূমপান করলেই জরিমানা: দক্ষিণ কোরিয়াতে যেসব নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৯ পিএম | ২৮ আগস্ট, ২০২৬
দুই হাতে ভিজিটিং কার্ড দেওয়া, লাল কালিতে কারও নাম না লেখা কিংবা সবাইকে দেখে মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন করা। দক্ষিণ কোরিয়াতে এমন কিছু শিষ্টাচার নিয়মকানুন দেখা যায় যা অনেকের কাছে চমৎকার এবং নন্দিত। তাদের কোরিয়ান কালচারের এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সাধারণ এবং না মানলে বেশ দৃষ্টিকটু এবং কোথাও কোথাও গুরুতর অপরাধ।
কোরিয়া ভ্রমণকারীদের এই বিষয়গুলোতে যত্নশীল হতে হয় এবং আগে থেকেই জেনে নিতে হয়। কারণ এগুলো না জানলে আইনি বা সামাজিক বিপদ ঘটতে পারে। চলুন এমন কিছু নিয়ম এবং শিষ্টাচার জেনে আসা যাক।
রেস্তোরাঁয় টিপস বা অতিরিক্ত টাকা রেখে যাওয়া কোরিয়ান সংস্কৃতি নয়
কোরিয়ায় কোনো ‘টিপিং কালচার’ নেই। খাবার টেবিলে বাড়তি টাকা বা টিপস রেখে গেলে কর্মীরা প্রায়ই সেই টাকা ফেরত দিতে পেছনে ছুটে আসেন। এমনকি কোরিয়ায় ‘কিপ দ্য চেঞ্জ’ (ভাংতি টাকা রেখে দেওয়া)-এর কোনো চল নেই।
রেস্তোরাঁয় খাবার টেবিলে জোরে নাক ঝাড়া অভদ্রতা
পশ্চিমা দেশগুলোতে খাওয়ার টেবিলে অনেকে সাধারণভাবেই নাক ঝেড়ে থাকেন, কিন্তু কোরিয়ায় খাবারের টেবিলে শব্দ করে নাক ঝাড়া অত্যন্ত অভদ্র এবং অস্বস্তিকর কাজ হিসেবে গণ্য হয়। প্রয়োজন হলে টেবিল ছেড়ে বাইরে গিয়ে নিভৃতে নাক পরিষ্কার করে আসা নিয়ম ।
ঘরে জুতো পরে প্রবেশ করা অনুচিত
কোরিয়ানদের বাড়ি ঘরে প্রবেশের সময় দরজাতেই জুতো খুলে ফেলতে হয়। কোরিয়ানদের বাসা-বাড়ি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন থাকে এবং ঘরের ভেতরে বাইরের ময়লা নিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির পরিপন্থী।
সৌনা, সমুদ্র সৈকত বা সাধারণ পুলে নগ্ন হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
ইউরোপের অনেক দেশে মিক্সড জেন্ডার সউনাতে নগ্ন থাকার সংস্কৃতি প্রচলিত থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় তা আইনত অপরাধ। শুধু নির্দিষ্ট জেন্ডার-সেপারেটেড বা পুরুষ/নারীদের জন্য আলাদা বাথহাউসে (জাপানি অনসেনের মতো) নগ্ন হওয়া স্বাভাবিক । তবে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য উন্মুক্ত সউনা, পুল বা সৈকতে অবশ্যই পোশাক বা সাঁতারের পোশাক (Swimsuit) পরতে হবে ।
যত্রতত্র ধূমপান করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা
ইউরোপ-আমেরিকা বা এশিয়ার অনেক দেশের মতো কোরিয়ায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে যত্রতত্র ধূমপান করা যায় না। প্রায় সব উন্মুক্ত পাবলিক প্লেসে ধূমপান আইনত দণ্ডনীয়। ধূমপান করতে হলে নির্ধারিত ‘স্মোকিং জোন’ বা বুথ ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় তাৎক্ষণিক জরিমানা গুনতে হতে পারে এবং স্থানীয় নাগরিকরা দ্রুত পুলিশে অভিযোগ জানান।
গণপরিবহনে সংরক্ষিত আসনে বসা যাবে না
বাস বা সাবওয়েতে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য নির্দিষ্ট আসনগুলো খালি থাকলেও বিদেশিদের সেখানে বসা উচিত নয় । বিশেষ করে সাবওয়ের বগির শেষ প্রান্তের গোলাপি রঙের আসনগুলো গর্ভবতীদের জন্য সংরক্ষিত। এগুলো খালি থাকলেও স্থানীয়রা সেখানে বসেন না এবং কোনো পর্যটক বসলে তারা মারাত্মক অসন্তুষ্ট হন।
গণপরিবহন ও পাবলিক স্পেসে জোরে কথা বলা বা স্পিকারফোনে কথা বলা নিষেধ
বাস, সাবওয়ে, লিফট বা ক্যাফেতে কোরিয়ানরা খুব শান্ত পরিবেশ বজায় রাখেন। এসব জায়গায় লাউডস্পিকারে কথা বলা বা উচ্চস্বরে আড্ডা দেওয়া যায় না। বাসে স্পিকারফোনে কথা বললে স্বয়ং বাস ড্রাইভারও থামতে বলতে পারেন ।
বাসে ওঠার সময় ও নামার সময় কার্ড ট্যাপ করা
বাসে সামনের দরজা দিয়ে ওঠার সময় কার্ড ট্যাপ করতে হয় এবং নামার সময় পেছনের দরজায় পুনরায় কার্ড ট্যাপ করতে হবে। নামার সময় ট্যাপ না করলে অতিরিক্ত ভাড়া কেটে নেওয়া হয়। সাধারণ আন্তর্জাতিক কার্ডের বদলে পর্যটকদের জন্য লোকাল ‘T-Money’ কার্ড ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক ।
বাস থামার আগেই দরজার কাছে গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া
কোরিয়ান বাস চালকরা খুব দ্রুত গাড়ি চালান। বাস সম্পূর্ণ থামার পর সিট থেকে উঠে নামার চেষ্টা করলে অনেক সময় চালক দরজা বন্ধ করে চলে যেতে পারেন। তাই নামার স্টপেজ আসার আগেই পেছনের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় নিয়ম ।
বিল পরিশোধ করতে কাউন্টারে যাওয়া
কোরিয়ান রেস্তোরাঁয় ওয়েটাররা টেবিলে খাবার দিলেও বিল টেবিলে নিয়ে আসেন না। খাওয়া শেষে দরজার কাছের ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে বিল পরিশোধ করতে হয় ।
অ্যাপল পে/গুগল পে-এর ওপর নির্ভর না করা
কোরিয়ায় অ্যাপল পে বা গুগল পে সর্বত্র কাজ করে না । স্যামসাং পে ছাড়া অন্য ডিজিটাল ওয়ালেটের ব্যবহার কম। তাই ভ্রমণকারীদের অবশ্যই ফিজিক্যাল ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। কোরিয়ার প্রায় প্রতিটি দোকানে কার্ড গ্রহণযোগ্য, ফলে খুব বেশি নগদ অর্থ সঙ্গে রাখার প্রয়োজন পড়ে না।
এমআর/টিএ