ভারতের সাথে সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক চাই: রাশেদ খাঁন
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০১ পিএম | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ভারতের সাথে আওয়ামী লীগ যেমনিভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, রাখি বন্ধনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক বরদাস্ত করবো না। ভারতের জনগণের সাথে সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক তৈরি হোক, আমরা সেটিই চাই এবং এই ক্ষেত্রে অবশ্যই ভারতকে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে, পুশইন বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের সাথে দাদাগিরি আচরণ করা যাবে না।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘ভারত সব সময়ই দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে, ভারতের জনগণের সাথে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু আমরা দেখেছি ভারতের কাছ থেকে এর বিপরীত আচরণ। ভারত গণ-অভ্যুত্থানের পরে তাদের সুরের মধ্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নতুন যে হাইকমিশনার এসেছেন, তিনি বলছেন যে, বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতের জনগণের সম্পর্ক হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের যে স্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ নীতি, এই নীতিকে ভারতও ধারণ করতে চায়। তো ঠিক আছে, যদি ভারত ধারণ করতে চায় তাহলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই তিনি ভারত সফরে যাবেন।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু তার আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনা এবং ওসমান হাদির খুনিদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার কী ভাবছে? এ বিষয়ে অবশ্যই স্পষ্ট অবস্থান আমরা জানতে চাই। একদিকে আপনি হাসিনাকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার সুযোগ করে দিবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন যে, আপনি ভারত সফরে আসেন, এইটা তো আসলে দ্বিচারিতা। ভারতকে বলব অবশ্যই আপনাদের সাথে সম্মান এবং মর্যাদার সম্পর্ক আমরা চাই।’
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যগুলো ইতিবাচক। তারা যদি আসলে এইভাবে এগিয়ে যায় এবং শেখ হাসিনা সহ যে সকল পলাতক খুনিরা, ওবায়দুল কাদের তাদেরকে যদি বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তাদের মনোভাব ব্যক্ত করে এবং শহিদ ওসমান হাদির খুনিদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তারা সঠিক মনোভাব ব্যক্ত করে, অবশ্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তিনি ভারতে যাবেন। এই আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয়, সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে, জনগণের মতামতের বাইরে গিয়ে, জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে তিনি ভারত সফরে গেলে সেটিকে জনগণ ভালোভাবে নিবে না। জনগণের বাইরে বিএনপি কোন রাজনীতি করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি গণমানুষের দল। সুতরাং বিএনপি যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, সেটি জনগণের সেন্টিমেন্ট বিবেচনা করেই ভারত সফরের সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএন