© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অসুস্থ স্বামীর ভালোবাসায় বন্যার সতর্কতায়ও ঘর ছাড়ছেন না নেপালের এক নারী

শেয়ার করুন:
অসুস্থ স্বামীর ভালোবাসায় বন্যার সতর্কতায়ও ঘর ছাড়ছেন না নেপালের এক নারী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১০ পিএম | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
নেপালের ত্রিশূলি বাজারে নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি হলেও ঘর ছাড়তে পারছেন না এক নারী। কারণ, তার শয্যাশায়ী স্বামী হাঁটতে পারেন না। স্বামীকে ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছেন না তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

নেপালের ত্রিশূলি নদীর তীরবর্তী প্রায় ৭২ কিলোমিটার এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। এতে নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলার বেশ কয়েকটি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একসময় জমজমাট বাজার হিসেবে পরিচিত ত্রিশূলি বাজারও এখন কাদা, ধ্বংসাবশেষ ও বিধ্বস্ত ঘরে পরিণত হয়েছে।

নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারির পর পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যান এনডিটিভির সাংবাদিক সিক্তা দেও। তখন ত্রিশূলি বাজারে আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই নীরবতা নেমে এসেছিল। আগের দিন সেখানে স্বজনদের নিখোঁজ হওয়ার খবর, উদ্ধার তৎপরতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও মালামাল নিয়ে মানুষের ব্যস্ততা ছিল। ই-পেপারসাবস্ক্রাইব করুন

এ সময় ওই নারী তামাংকে জিজ্ঞেস করা হয়, সতর্কতার পরও কেন তিনি এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছেন না।

জবাবে তিনি বলেন, আমার স্বামী বৃদ্ধ এবং তিনি হাঁটতে পারেন না। এ কারণে আমি তাকে নিয়ে অন্য কোথাও যেতে পারছি না। যা-ই ঘটুক, আমাকে এখানেই থাকতে হবে।

তামাং ও তার স্বামী এরই মধ্যে ভয়াবহ বন্যা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তাদের এলাকার বাড়িঘর, দোকানপাট ও মানুষের জিনিসপত্র পানির স্রোতে ধ্বংস হয়ে যায়। ওই নারী নিজ বাড়ির ভেতর থেকেই বন্যার পানি এগিয়ে আসতে দেখেছিলেন। এখন আবারও বন্যার সতর্কতা জারি হওয়ায় নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছেন তারা। তবে তামাংয়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শয্যাশায়ী স্বামীকে কীভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেবেন।

তার এই পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বয়স্ক, শয্যাশায়ী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বড় চ্যালেঞ্জটি সামনে এনেছে।

সিক্তা দেও বলেন, তামাংয়ের মতো মানুষদের জন্য দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বন্যা শুরু হওয়ার আগেই তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ধরনের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসএন 

মন্তব্য করুন