© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন:
এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪২ পিএম | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এআইয়ের ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে।

আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি আমার মনে হয় খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে।

ব্রিটেনের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি, বিলাতে একটি মামলায় আরেকটি মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেই রেফারেন্স জজ সাহেব গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর তিন-চারটি আদালতে সেই রায় অনুসরণ করা হয়। কিছুদিন পর গবেষণা করে দেখা গেল, এ ধরনের কোনো মামলারই অস্তিত্ব নেই। তখন বিচারক খুব বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু ততক্ষণে রায় দেওয়া হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

তিনি বলেন, কারণ রায় লিখতে হয় ৩টি জিনিস দিয়ে- আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে আপনার মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।

‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’

এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবেক একজন মানুষের নিজের থেকে আসে। এটা তার স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন