চট্টগ্রামে কারাবন্দী অবস্থায় অসুস্থ হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৭ পিএম | ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর ইসলাম (৫৫) কারাবন্দী অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নূর ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি মাতৃকা' নামে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে নূর ইসলামকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নূর ইসলাম নামে এক কারাবন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নূর ইসলামের আইনজীবী শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের জামিন আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে অন্যায্যভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট আদালত থেকে নূর ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয় এবং সেদিন বিকেলেই জামিনের লিখিত আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী সেদিনই তার মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিরসরাই থানা পুলিশ তাকে অন্য একটি মামলায় 'গ্রেপ্তার দেখানোর' (শো-অ্যারেস্ট) আবেদন করায় তাকে ছাড়া হয়নি। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল।
আইনজীবী শাহাদাত হোসেন বলেন, ২ সেপ্টেম্বর যখন নূর ইসলাম মারা যান, তখন তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আটকাদেশ বা মামলা ছিল না। জামিন পাওয়ার পর কোনো আদেশ ছাড়া তাকে বন্দি রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
জামিনের পর কেন তাকে আটকে রাখা হলো- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আওলাদ হোসেন বলেন, নূর ইসলামকে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আদালত কী আদেশ দিয়েছেন, তা আমার জানা নেই।
অন্যদিকে বিনা পরোয়ানায় আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ ছাড়া কোনো বন্দীকে জামিনের পর কারাগারে রাখার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় আইনি আদেশ ছিল।
উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে মিরসরাই থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন নূর ইসলাম।
এসএন