© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আজ পল্লীগানের অমর শিল্পী আবদুল আলীমের প্রয়াণ দিবস

শেয়ার করুন:
আজ পল্লীগানের অমর শিল্পী আবদুল আলীমের প্রয়াণ দিবস

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৮ পিএম | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পল্লীগানের কিংবদন্তি মরমী কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীমের আজ ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাংলা পল্লীসঙ্গীতের এই অমর শিল্পী। তাঁর চলে যাওয়ার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কণ্ঠের মাধুর্য ও গানের আবেদন আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।

১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল আলীম। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে একাধিক গুণী ওস্তাদের কাছে সংগীতে তালিম নেন তিনি। ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু, শ্রী কানাইলাল শীল, ওস্তাদ মমতাজ আলী খান, ওস্তাদ বেদারউদ্দিন আহমদ ও আবদুল লতিফের কাছে সংগীতশিক্ষা গ্রহণ করেন এই শিল্পী।

নিজের অনন্য কণ্ঠ ও পরিবেশনার গুণে পল্লীসঙ্গীতকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। তাঁর গাওয়া ‘নাইয়ারে নায়ে বাদাম তুইলা’, ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’, ‘আর কতকাল ভাসবো আমি’, ‘দুঃখ সুখের দোলায় দোলে’, ‘আমার মায়া ডোরে বাঁধা ও মন’সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

আবদুল আলীম শুধু গান গেয়েই থেমে থাকেননি, বাংলা পল্লীসংগীতের নিজস্ব স্বর ও আবেগকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠে মাটি ও মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ এবং বাংলার লোকজ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ জীবন্ত হয়ে উঠত।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিও পেয়েছেন এই শিল্পী। স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। জীবদ্দশায় অল্প সময় পেয়েও বাংলা সংগীতের ইতিহাসে নিজের জন্য তৈরি করে গেছেন স্থায়ী এক আসন।

আজ তাঁর ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সংগীতপ্রেমীরা। সময়ের স্রোতে প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে গানের ধরন; কিন্তু আবদুল আলীমের কণ্ঠে ধারণ করা বাংলার মাটি ও মানুষের সেই গান আজও হারিয়ে যায়নি। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে আছেন অগণিত শ্রোতার হৃদয়ে।

এসএ/এসএন



মন্তব্য করুন