মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কে এই জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপিকা সারা খলিফা?
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৭ পিএম | ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিশাল আকারের মাদক চোরাচালান ও প্রস্তুতকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিসরের একটি আদালত দেশটির টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফা এবং অন্য ১১ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী খলিফা নিরাপত্তা ও অপরাধমূলক বিষয়ভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিশন ইম্পসিবল’ উপস্থাপনার জন্য পরিচিত।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মিসরীয় এই টেলিভিশন উপস্থাপিকার একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিক এবং পার্টি ও অনুষ্ঠান আয়োজক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মিসরের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা খলিফা ও অন্য আসামিরা দেশটির একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চক্রটি বিক্রির জন্য কৃত্রিম মাদক তৈরি করতে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের প্রসিকিউটররা বলেছেন, এই গ্রুপের বিভিন্ন সদস্য কাঁচামাল আমদানি, মাদক প্রস্তুত এবং তা বিতরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তের সময় দেশটির কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য এবং মাদক তৈরির উপকরণ জব্দ করেছে। পাশাপাশি মাদক তৈরির ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

আদালত অন্য ৯ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং সাতজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। খলিফার আইনজীবী বলেছেন, তিনি এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এই রায় গত মাসে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি এই রায়ের বিষয়ে ধর্মীয় মতামত দেওয়ার পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়; যা মিসরে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
খলিফা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার এবং মামলা চলাকালীন পুরো সময় ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে আদালতের শুনানি চলাকালে তিনি বিচারককে বলেছিলেন, মিসরের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ছবির জন্য তাকে দাঁড় করানোর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তিনি বলেছেন, জীবনে কখনো একটি সিগারেট কিংবা ধূমপান করেননি তিনি।
মিসরীয় গণমাধ্যম বলেছে, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ভেঙে পড়েন খলিফা। এ সময় আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দয়া করে আমার কথা শুনুন, স্যার। আমার মা-বাবা আমাকে ভালো মানুষ হিসেবে বড় করেছেন; তারা নামাজি মানুষ এবং আমার মাদকের টাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’’
আল-আহরাম বলেছে, ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং খুদে বার্তা, ছবি ও ভিডিওসহ নানা কারিগরি ও ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রসিকিউটররা তাদের মামলা দাঁড় করিয়েছিলেন; যা এই চক্রের কার্যক্রম তুলে ধরেছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কায়রো থেকে খলিফাকে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, সুনির্দিষ্ট ধর্ষণের অভিযোগ এবং মাদক পাচারসহ একাধিক অপরাধের জন্য মিসরে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মাদকসংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডের এই প্রয়োগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মিসরে ২০২৫ সালে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা এবং একই বছরে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
সূত্র: বিসিবি, এএফপি।
এসএ/টিএ