সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৮ পিএম | ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে কমিশন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল অথরিটির অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (ওআইএ) কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড দুদকে পাঠিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি বর্তমানে চলমান ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
পাশাপাশি, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এই অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এই তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকিটকি ক্রয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তারা একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে। অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ওয়াকিটকি কিনে সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
অর্থ পাচার রোধে দুদকের আরেকটি বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইল অব ম্যানে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদনটির সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ দুদকের পাঠানো আবেদনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমস্ত সম্পত্তি সেখানে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে কমিশনকে নিশ্চিত করেছে।
কেএন/এসএন